চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হাসান রাজুকে ঘিরে এখন শোক আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে তার পরিবারের পরিবেশ। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কন্যাসন্তানের বাবা হওয়া রাজু আর কখনো মেয়ের মুখে ‘বাবা’ ডাক শুনতে পারবেন না—এমন আক্ষেপে ভেঙে পড়েছেন তার স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে রৌফাবাদের বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ২৪ বছর বয়সী হাসান রাজু। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে রেশমি আক্তার (১২) নামে এক শিশু, যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত রাজুর মা সখিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত মাসের ১৪ তারিখ আমার ছেলের ঘরে একটা মেয়ে সন্তান জন্ম নিয়েছে। মেয়ের মুখে বাবা ডাক শোনার আগেই আমার ছেলেকে মেরে ফেললো।
স্বজনরা জানান, রাজু কয়েকদিন আগে রাউজানের কদলপুর থেকে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। পরিবার দাবি করেছে, তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখে মাস্ক পরা পাঁচ থেকে ছয়জন অস্ত্রধারী যুবক গলির ভেতরে রাজুকে ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, জনসমক্ষে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা তাদের ভীত করে তুলেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানে নাসির উদ্দিন নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ওই হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।