বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের লবণ কারখানায় ব্যস্ততা বেড়েছে, দাম নিয়ে উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৬ মে ২০২৬, ০৯:৫০

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের লবণ কারখানাগুলোতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। পশুর চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ লবণের চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন, খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রমে গতি এসেছে।

নগরের আনু মাঝির ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রলার থেকে লবণ খালাস, পরিষ্কার, স্তূপ করা এবং ট্রাকে পরিবহনের কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। মৌসুমভিত্তিক এই চাহিদা বাড়ায় লবণ শিল্পে কাজের চাপও বেড়েছে।

অন্যদিকে লবণের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। আতুরার ডিপোসহ বিভিন্ন আড়তে লবণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলেও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আড়তদারদের অভিযোগ, রমজান মাসে যেখানে ৭৪ কেজির একটি বস্তা লবণের দাম ছিল প্রায় ৫৮০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৭৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে কোরবানির মৌসুমে আরও দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছেন। সরকারিভাবে প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা না থাকলে এই সংকট আরও বাড়বে।

চামড়া ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লবণের দাম বাড়লে চামড়া সংরক্ষণ খরচও বেড়ে যায়। এতে আমাদের লাভ কমে গিয়ে অনেক সময় লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

অন্যদিকে লবণ কারখানার শ্রমিক মো. সেলিম হোসেন জানান, ঈদের আগে কাজ অনেক বেড়ে গেছে। কষ্ট বেশি হলেও এই সময়টাই আমাদের আয় বেশি হয়।

এদিকে কক্সবাজারের লবণ চাষি আবদুল করিম বলেন, আমাদের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা হলেও অনেক সময় তার চেয়েও কম দামে লবণ বিক্রি করতে হয়। মাঝখানে যারা আছে, তারাই বেশি লাভ করছে।

ভিডিও