হিজড়া খাল ও জামালখান খাল। সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় চলছে এই দুটি খালে জায়গা অধিগ্রহণ, সংস্কার ও খনন কাজ। চলমান কাজের কারণে খাল দুইটিতে বন্ধ রাখা হয়েছে পানির প্রবাহ। তাই খালের পানি খালে নয়, বইছে সড়কের ওপর দিয়ে। আর এতেই ঘটছে বিপত্তি।
বৃষ্টি হলেই হিজড়া খাল ও জামালখান খাল সংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। দুর্ভোগ ভোগান্তিতে পড়ছে নগরবাসী। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৯৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে এ দুটি খালের কারণে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই বৃষ্টিতে হিজড়া খাল সংলগ্ন প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ,কাপাসগোলা, তেলেরপট্টি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, শুলকবহরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোমর সমান পানি উঠে গেছে।
অন্যদিকে, জামালখান খাল সংলগ্ন হেমসেন লেইন, শরীফ কলোনি, রহমতগঞ্জ, জামালখান এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় শুধু সড়ক নয়; আবাসিক এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান,অফিস পাড়া, দোকানপাটসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আড়াই ঘণ্টা বৃষ্টির এ জলাবদ্ধতা বলতে গেলে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নগরবাসীর কাছে।
বিষয়টি নিয়ে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, হিজড়া খালের অবৈধ স্থাপনাগুলো ভাঙা, খাল পুনরুদ্ধার, নালা নির্মাণসহ অনেক কাজ চলছে। এসবে কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। টাকাও লাগবে। সরকারি অর্থ বরাদ্দ চাওয়া মাত্র পাওয়া যায় না। প্রসেসিং আছে । কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে নগরবাসী।
সড়কে কোমর সমান পানি পরিস্থিতি দেখতে দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি আগামী ১৫ মে’র মধ্যে খালের সংস্কার কাজ সম্পূর্ন শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আওতায় খাল সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ করে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। তবে কাজ শেষ হয়ে গেলে খালগুলো নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি খালের মধ্যে বর্তমানে ২৬টি খাল শতভাগ এবং ৭টি খালের ৯০-৯৭ শতাংশ কাজ শেষ। বাকি আছে মাত্র তিনটি খাল-হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও রামপুর খাল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে হিজড়া খালের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে হিজরা খালের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে, জামালখান খালের কাজ শেষ হয়েছে ৫৮ শতাংশ। রামপুর খালের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
২০১৭ সালের ৯ অগাস্ট একনেকে জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির পূর্ত কাজ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। প্রকল্পটির মোট ব্যয় বাজেট ৮,৬২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৫,৬১৬ কোটি টাকা। প্রকল্প সমাপ্তের সময় ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সংশোধন শেষে প্রকল্প ব্যয় আরো ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা বেড়ে হয় মোট ৮,৬২৬ কোটি টাকা। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এমন অবস্থায় প্রকল্পের সময় আছে আর মাত্র দুই মাস।
পূর্বতারা/ইউডি