,

 

লোকজ ও হস্তশিল্পের পণ্যের পসরা চট্টগ্রামের বৈশাখী মেলায়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 24 April 2026, 01:14

জব্বারের বলীখেলাকে ঘিরে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে শতাব্দী পুরোনো ঐতিহ্যের বৈশাখী মেলা। এ উপলক্ষে নগরীর লালদিঘী ময়দানের আশপাশের এলাকায় বসছে মেলা। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে গৃহস্থালি ও ঘর সাজানোর পণ্যে থেকে শুরু করে হরেক রকমের লোকজ শিল্পের পণ্য।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নগরীর আন্দরকিল্লা মোড় থেকে কোতোয়ালি মোড় পর্যন্ত দেখা গেছে, অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। যেখানে মাটির তৈরি তৈজসপত্র, খেলনা, ফুলদানি, পুতুল, বেত-কাঠ ও বাঁশের তৈরি আসবাব, হাতপাখা, মাছ ধরার পলো, বেতের তৈরি ডালা, কুলো, ফলদ ও বনজ গাছের চারা, ফুল গাছের চারা, মুড়ি মুড়কি, পাটি, মাদুর, চুড়ি, প্রসাধনী সামগ্রী, দা-বটি, ছুরিসহ প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যাচ্ছে।

খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে রঙ-বেরঙয়ের সুস্বাদু পিঠা, রাজশাহীর তিলের খাঁজা, চনা-বনার ট্যাং, নানা রকমের খই, চটপটি, চিংড়ি ভাজা, লিচু, তরমুজ, আঁখ, বাঙ্গি, বড় সাইজের শসা, রকমারি আচারসহ আরো প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।

দোকানি ও দর্শনার্থীরা জানান, তীব্র রোদ হওয়ায় সকালে মানুষের আনাগোনা একটু কম। তবে বিকেল হলেই বাড়বে মানুষের উপস্থিতি। বিশেষ করে শুক্রবার হওয়ায় মেলায় বাড়তি উপস্থিতি ও বেচাবিক্রির আশা করছেন তারা।

বাঁশের তৈরি হস্তশিল্প নিয়ে বসেছেন করিম উদ্দিন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি নানা পণ্য নিয়ে এসেছেন। তাদের পসরায় রয়েছে বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা, টুকরি, চাটাই, চালুনি, হাতপাখা ও ঝুঁড়িসহ দৈনন্দিন গৃহস্থালি সামগ্রী।

নরসিংদীর শীতপুর থেকে মিলন শেখ। তার দোকানে ঠাঁই পেয়েছে বাঁশ বেতের তৈরি কুটির শিল্পের মালামাল। তিনি বলেন, প্রতিবছর এই মেলাকে ঘিরে তারা ছয় মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন এবং মেলা শুরুর আগেই চট্টগ্রামে এসে পৌঁছান।

আন্দরকিল্লা মোড় থেকে টেরিবাজারের দিকে নামতেই ফুটপাতে চোখে পড়ে ফুলঝাড়ুর পসরা। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এসব ঝাড়ু সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনে এনে এখানে বিক্রি করেন। ঝাড়ু বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, এই পণ্যই তার জীবিকার প্রধান উৎস।

দীর্ঘ ৩ দশক ধরে মেলায় শীতল পাটি বিক্রি করে আসা জলিল আহমেদ বলেন, রঙ, মান ও কারুকাজের ধরণ অনুযায়ী পণ্যের বিভিন্ন দাম। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায় কেরে চলছে সংসার।

নগরীর অক্সিজেন এলাকা থেকে আসা রাশেদ মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর এই মেলায় আসি। এখানে এমন অনেক জিনিস পাওয়া যায়, যা সারা বছর কোথাও পাওয়া যায় না। বিশেষ করে বাঁশ-বেতের জিনিসগুলো আমাদের খুব দরকারি, তাই কিছু কিনতেও এসেছি।

পটিয়ার বাসিন্দা সুমি আক্তার বলেন, মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বাচ্চাদের জন্য খেলনা আর কিছু ঘর সাজানোর জিনিস কিনেছি। দামও মোটামুটি সবার নাগালের মধ্যেই আছে। পণ্যের দাম সাধারণত ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে হাজারের ওপরেও আছে।

মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা থাকায় সেদিন ভোরের মধ্যেই মেলা শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বড় আয়োজন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক জনসমাগম হবে। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আগেভাগেই নেওয়া হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরিসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভিডিও