চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা বলেন, কোভিড পরবর্তী শিশুদেরকে সুরক্ষিত রাখতে টিকা প্রদান বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ৬-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশু যাতে বিনামূল্যে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা পায় সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টিকাদান ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে যৌথভাবে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অতীতে এমআর টিকা পেয়ে থাকলেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই বয়সী সব শিশুকে এ ক্যাম্পেইনে আবারও এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে। তবে অসুস্থ শিশুরা সুস্থ হলে টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। এমআর ক্যাম্পেইন সফল করতে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে। হাম নিমূলে সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। এমআর টিকা নিয়ে গুজব ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ক্যাম্পেইনে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিয়া প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ মে পর্যন্ত (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) সারাদেশে এই ক্যাম্পেইন চলবে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৬৪টি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ২৪ হাজার ৬৪০টি টিকাদান কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাম-রুবেলার টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। এটি গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, যার ফলে একটি বড় জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় এলে রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলার ১৫টি উপজেলার ২০০ ইউনিয়নের ৬০০ ওয়ার্ডে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে বিদ্যালয়ভিত্তিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে পৃথকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।