শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৩

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। প্রিমিয়ার লিগ খেলে ঢাকা থেকে নিজ শহর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে করে বাসায় ফেরার পথে তার সাথে এই ঘটনা ঘটে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ক্রিকেটার নাঈম হাসান রাতে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তার। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামার সংকেত দেন।

নাঈম হাসান বলেন, গাড়ি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন, পরিচয়পত্রও দেখান। তবু তাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে তাকে পেটান।

মারধরের একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় তুলে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান। তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ি থাকলেও সেখানে তাকে তোলা হয়নি। মারধরের এক পর্যায়ে তাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল। এরপর ওসির কক্ষে নেওয়া হয় তাকে। ওসির কক্ষেও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করে নাঈম হাসান বলেন, ওসিকে তিনি যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলেন তখন ওসি বারবার বলেন চোখ নিচু করে কথা বলতে। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন, এসআই শফিক একটি সংস্থার চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নাঈম হাসানকে থানায় নিয়ে আসে। তাকে তথ্য দিয়েছিল থানার সেকেন্ড অফিসার। আমাকে না জানিয়েই তারা এই কাজ করেছে। নাঈমের সঙ্গে থাকা দু’জন প্রত্যক্ষদর্শীও অভিযোগ করেন, পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা তা বিবেচনায় নেয়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, চোরাচালান সংক্রান্ত একটি কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের সময় নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশি হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় ক্রিকেটার চট্টগ্রামের গর্ব নাঈম হাসানের উপর পুলিশি হয়রানির তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

ভিডিও