কক্সবাজারের উখিয়ায় মায়ের সঙ্গে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অনুরোধে এমনাটা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কোমলমতি শিশুটিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি আইন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) গভীর রাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সালাহউদ্দিনের ছোট ভাই মিজানকে আটক করা হলেও তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী পিতা, দুই নারী এবং প্রায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুকেও আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘পুলিশের ওপর হামলা’ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেখানে ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ১০–১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে একজন বৃদ্ধ, দুই নারী ও একটি শিশুকে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে আটক করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
সাফফাত ফারদিন রামিম নামে এক আইনজীবী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুর কর্মকাণ্ডকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এ ক্ষেত্রে শিশুকে গ্রেফতার করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন হতে পারে।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইদ মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, একটি শিশুকে থানায় আটক রেখে আদালতে পাঠানো শুধু আইনের পরিপন্থী নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও গুরুতর অবমাননা।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ফৌজদারি মামলায় দায়ী করা যায় না, তাই এমন ঘটনা আইনগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
জানতে চাইলে উখিয়া-টেকনাফ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তবে রকিবুল হাসান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ধরতে গেলে তিনি পালিয়ে যান এবং এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।