মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে প্রায় ১৮ টাকা। এমন অবস্থায় পাম অয়েলজাত ভোগ্যপণ্যের বাজারও অস্থির হয়ে উঠার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
পাম অয়েলের দাম বাড়ার বিষয়ে খাতুনগন্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মো: আমিনুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েল টন প্রতি ২৫০ ডলার বাড়ার পাশাপাশি শিপিং চার্জে খরচ বেড়ে যাওয়াতে দেশের বাজারে দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার সহনীয় না হওয়া পর্যন্ত এ পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ নগরীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাম অয়েলের মণপ্রতি দাম উঠেছে প্রায় ৬ হাজার ৫৫০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ৫ হাজার ৮৫০ টাকার মতো। অন্যদিকে সুপার পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার ৭৫০ টাকায়, আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম পৌঁছেছে ৭ হাজার ৫০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে পাইকারি তেল কিনতে আসা প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের উপর নির্ভর করছে ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেছে। আগে কিনতাম লিটার ১৬২ টাকা/ ১৬৪ টাকায়। এখন প্রতি লিটারে ৮/১০ টাকা বেড়ে গেছে।
পাম অয়েলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিক্রেতা মোহাম্মদ হেলাল বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের দাম বাড়ছে। আগে আমরা চাহিদা অনুযায়ী পাঁচ ড্রাম বা তারও বেশি তেল কিনতাম । এখন সে পরিমান কিনছি না। পাম অয়েলের বাজার বাড়তি। সে কারণে পাম অয়েলের ভোক্তাও কমে যাচ্ছে।
এদিকে, প্রতিদিনই খোলা তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর বাজার মনিটরিং ও মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ না নিলে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
এ ব্যাপারে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এসএম নাজের হোসেন বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী বাজারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। বিশ্ববাজারে কিছুটা দাম বাড়লেও যুদ্ধকে ইস্যু করে খোলা ভোজ্যতেলের দাম প্রতিদিনই বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে আরও নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বতারা/ইউডি