বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে খাতুনগঞ্জে মশলার বাজারে অস্থিরতা, দাম ঊর্ধ্বমুখী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৬

চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র খাতুনগঞ্জের মশলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের মশলার দাম বেড়েছে। যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সরজমিনে দেখা গেছে, ইরানি টক আলু বোখারা কেজিপ্রতি এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪৫০ টাকায়, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৬৫০ টাকা। একইভাবে লবঙ্গের দাম ১২২০ থেকে ১৩২০ টাকা, জিরা ৫৫৮ থেকে ৬৮০ টাকা এবং ইরানি জিরা ৬২০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনির দাম ৪২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে। তেজপাতা ও গোলমরিচের দামও বেড়েছে।

তবে ভারত থেকে আমদানি হওয়ায় এলাচের বাজারে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। আগে যেখানে এলাচ ৪৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা কমে ৪৫শ টাকায় নেমেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিশেষ করে আরব দেশগুলো থেকে আমদানি করা মশলার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাতে কিছু পণ্যের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

খাতুনগঞ্জের মশলা ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল করিম বলেন, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। আগে যেখানে একটি ট্রাক ভাড়া ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ছিল, এখন তা বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে হলুদ, মরিচ, ধনিয়াসহ অন্যান্য মশলার দামও ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

নুর মোহাম্মদ রাকিব নামে এক আমদানিকারক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ ভাড়া বেড়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে আমদানির মোট খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে মশলার পাশাপাশি ইতোমধ্যে ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা ও ডালের দামও বেড়েছে। সামনে উৎসব বা বাড়তি চাহিদার মৌসুম এলে বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিডিও