মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সন্দ্বীপের এস এম তারেকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম ১০ আসনের সাংসদ সাঈদ আল নোমান। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে নগরীর হালিশহরস্থ ঈদগাঁ বউবাজার দুলহান কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন ফজুমিয়া কন্টাক্টর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজার নামাজ শেষে একথা বলেন তিনি।
সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন প্রবাসে কষ্ট করে পরিবারকে সাপোর্ট দিয়ে আসছিলেন প্রবাসী তারেক। আশা ছিলো সামনে একবারে দেশে ফিরে আসবেন। তার স্ত্রীরও স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে আসলে পরিবারের সঙ্গে একসাথে থাকবেন।
তার সন্তান বর্তমানে কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে। সে বাবার সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছিল। বাবার জন্য রান্না করে খাওয়াতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তারেক ইন্তেকাল করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। সরকারের মানবিক উদ্যোগের কারণে এই পরিবারের পাশে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা এসেছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে বাহরাইন থেকে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেছে।’
সাংসদ নোমান বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবেও এই পরিবারের পাশে আছি, ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ। তাদের সন্তানের পড়াশোনার বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং এলাকাবাসীকেও পাশে থাকার আহ্বান জানাই।’
‘জীবন-মৃত্যু আল্লাহর বিধান, তবে এভাবে প্রিয়জন হারানো পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তাই আমরা তাদের জন্য দোয়া করছি এবং সার্বক্ষণিক পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি’, যোগ করেন সাঈদ আল নোমান।
এর আগে, গত ২ মার্চ বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপ প্রবাসী এস এম তারেক নিহত হন। গতকাল শুক্রবার বাহরাইন সময় সকাল ১১টায় সেখানে স্থানীয় কুয়েত মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাহরাইনে অবস্থিত ব্যাপকসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় গালফ এয়ারের বিমান যোগে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে এটি পৌঁছায়।