শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ডিসি জাহিদের সহায়তায় বিয়ের পিঁড়িতে ৪ কন্যা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১০

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে চার কন্যার বিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বুধবার (১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে তিনি কয়েকটি পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা প্রদান করেন।

মেয়ের বিয়ের আয়োজনের সামর্থ্য না থাকায় বাঁশখালী, কোতোয়ালী ও বাকলিয়ার একাধিক অভিভাবক গণশুনানিতে উপস্থিত হয়ে তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে চারজনকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এতে পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাঁশখালীর দিনমজুর নাজমুল হক বলেন, ভিড়ের মধ্যেও জেলা প্রশাসক তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে বোনের বিয়ের জন্য সহায়তা দিয়েছেন। পূর্ব বাকলিয়ার কাঠমিস্ত্রি মো. জামাল উদ্দিন জানান, বহু জায়গায় চেষ্টা করেও সহায়তা না পেলেও জেলা প্রশাসকের সহায়তা ও দোয়া পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত।

কোতোয়ালীর বুলবুলি দাশ লিখিত আবেদনে জানান, স্বামীর মানসিক অসুস্থতার কারণে সংসারের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেয়ের বিয়ের খরচ জোগানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তার আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক।

বাঁশখালীর পুঁইছড়ির সেলুন কর্মী বিধান সুশীল অল্প আয়ে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালালেও মেয়ের বিয়ের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। গণশুনানিতে তার আবেদন শুনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

গণশুনানিতে শুধু বিয়ের সমস্যাই নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের অসহায় মানুষের চিকিৎসা, দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটও উঠে আসে। আকবরশাহ এলাকার মোঃ বাবুল ও মোঃ আবুল হাসিম অসুস্থতার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বাকলিয়ার গোলজার বেগম, মৃদুল দাশ, আজিজুল হক, রিনা আক্তার, সাহিদা আক্তার সুমি, মনোয়ারা, কোহিনুর আক্তার ও মোঃ শাহ আলমসহ অনেকে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গণশুনানি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা। যারা কন্যাদায় বা আর্থিক সংকটে ভুগছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করাই আমাদের লক্ষ্য।

ভিডিও