চট্টগ্রামে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গাড়িচালক ও মালিকরা। শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নগরজুড়ে ৬২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হলেও বাড়তি চাপে কমছে না ভোগান্তি।
বুধবার (১ এপ্রিল) নগরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের লাইন তৈরি হয়। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগও করছেন ভোক্তারা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকা সত্ত্বেও অনেক স্টেশনে তা সঠিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি কিছু স্টেশন অল্প সময়ের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খোলা স্টেশনগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে চলমান পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে রাইড শেয়ারিং খাতে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং নির্ধারিত সময়ে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহের কারণে চালকরা পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে অনেক চালক আগের মতো নিয়মিত গাড়ি চালাতে না পারায় রাইডের সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
রাইড শেয়ারিং চালক মো. রাশেদ বলেন, তিনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে দিনের একটি অংশেই গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে তার আয়ের ওপর প্রভাব পড়েছে এবং অনেক সময় অ্যাপে অনলাইনে থেকেও রাইড নিতে পারছেন না। তিনি জানান, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরেক চালক জসিম উদ্দিন বলেন, আগে যেখানে দিনে একাধিক ট্রিপ সম্পন্ন করা যেত, এখন জ্বালানির সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, অনেক চালক বিকল্পভাবে ভাড়া কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ জ্বালানি সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় ও খরচ যুক্ত হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে এবং ভাড়া ও অপেক্ষার সময় উভয়ই বেড়েছে।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং অবৈধ মজুত রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। কৃত্রিম সংকট রোধে বন্ধ ফিলিং স্টেশনগুলো এবং সন্দেহজনক স্থানে চালানো হচ্ছে অভিযান। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জ্বালানির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।