ঈদের আমেজ কেটে গেলেও চট্টগ্রামের বাজারে গরম ভাব এখনো কাটেনি। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাংস, মাছ ও মুরগির দামে অস্বস্তি বাড়ছে প্রতিদিনই। আমদানি না থাকাতে দেশি মুরগির আকাল বাজারে। আর এমন পরিস্থিতিতে দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০/৮০০ টাকায়। এমন অবস্থায় অনেক ক্রেতা দেশি মুরগি কিনতে এসে গরুর মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যার কারণে আমদানি নির্ভর পণ্যদ্রব্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে।
বহদ্দারহাট বাজারের বিক্রেতা হারুন মিয়া বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম ঈদের সময় ছিল ২৩০ টাকা। আজ শুক্রবার ঈদের ষষ্ঠ দিন মুরগির কেজি ১৯৫ টাকা। দেশি মুরগি তো বাজারেই নেই। দেশি মুরগি আর গরুর মাংসের দামের তেমন তফাৎ নেই। দেশি মুরগি আর গরুর মাংসের সমান দাম। তেলের দাম বেড়ে যাওয়াতে গাড়িভাড়া বেড়ে গেছে। তেলের অভাবে রোডে গাড়িই নাই। আমদানি কমে গেছে। তাই দাম বেড়ে যাচ্ছে।
নগরীর বহদ্দারহাট, রেয়াজুদ্দিন বাজার, চকবাজার,কাজীর দেউড়ি,পাহাড়তলী কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি বাজারে দেখা গেছে, ঈদের পরপরই সবচেয়ে বেশি দামের চাপ পড়েছে মাংস ও মুরগির বাজারে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২০ টাকায়। আর দেশি মুরগির সরবরাহ সংকট এতটাই তীব্র যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। লেয়ার ৩২০ টাকা, সোনালী ৩৬০ টাকা এবং পাকিস্তানি কক ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংসের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়। হাড়ওয়ালা মাংস ৮৫০ টাকা। খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। গত কয়েকদিনে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
তবে চাল ও ডিমের বাজারে বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। বাজারে সব ধরণের চালের দাম মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে । ডিম ডজন প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় । কিছুটা কমেছে আদা রসুন পেঁয়াজ ও ডালের দাম।
সবজির বাজারে কিছুটা দাম কমার আভাস মিললেও তা এখনো স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়, ঝিঙ্গা ১২০, বরবটি ১০০ এবং শশা ১০০ টাকা কেজি দরে। ফলে সবজি কিনতেও হিসেব কষতে হচ্ছে ক্রেতাদের।