মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে জাহাজ চলাচল ও খালাস কার্যক্রম। ঈদের ছুটিতে বন্দর সচল রাখার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল রাখায় সহজেই খালাস হচ্ছে এলএনজি, এলপিজি ও তেলবাহী জাহাজ। এর ফলে সংকটময় পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩৪টি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙর ও জেটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ২৭টি জাহাজ ইতোমধ্যে পণ্য খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে।
বর্তমানে তিনটি জাহাজ সরাসরি খালাস কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ওমান থেকে আসা ‘বিডব্লিউইকে বর্নহোম’ এলপিজি নিয়ে সীতাকুণ্ড পয়েন্টে অবস্থান করছে। থাইল্যান্ড থেকে আসা ‘এবি অলিভিয়া’ বেইস অয়েল নিয়ে বন্দরের ডিওজে/৪ জেটিতে রয়েছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘গ্রান কুভা’ গ্যাস অয়েল নিয়ে কুতুবদিয়া পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও চারটি বড় জাহাজ বন্দরে ভেড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে কাতার থেকে ‘এইচএল পাফিন’ ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ এলএনজি নিয়ে শিগগিরই পৌঁছাতে পারে। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে ‘পিভিটি সোলানা’ গ্যাস অয়েল নিয়ে ৩১ মার্চ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ এলএনজি নিয়ে আগামী ৪ এপ্রিল বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব জাহাজে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস ও জ্বালানি তেল রয়েছে। যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, রমজান ও ঈদ ছুটিকালীন সময়ে জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং তদারকির করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি সাইড এবং বর্হিনোঙরে পণ্য খালাস তদারকি ও পর্যবেক্ষণ নিবিড়ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকটকালীন সময়ে অগ্রাধিকার বার্থিং এবং নেভিগেশনাল সাপোর্টের মাধ্যমে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে চট্টগ্রাম বন্দর সংকট উত্তোরণে ভূমিকা রাখছে।