শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কাচঘেরা ভবনে বন্দি ধোঁয়া, শ্বাসনালী পুড়ে হতাহত

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪

ঈদকে সামনে রেখে নিয়মিত সময়ের চেয়ে একটু বেশিই ব্যস্ত চট্টগ্রামের টেরিবাজার। খোলা দোকান, ক্রেতাদের ভিড়, কাপড় কাটার শব্দ, সেলাই মেশিনের ঘূর্ণন—সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত নগর জীবনের ছন্দ। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু পরেই সেই ছন্দ ভেঙে দেয় এক অগ্নিকাণ্ড। ১২ তলাবিশিষ্ট কে বি অর্কিড প্লাজা ভবনের চতুর্থ তলায় হঠাৎ আগুন লাগে। আগুনের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ধোঁয়া। কাচের কারণে বাইরে বের হওয়ার পথ খুঁজে না পেয়ে আটকে থাকে ভবনে।

জানা গেছে, অর্কিড প্লাজার নিচের ছয় তলা কাচে ঘেরা। আধুনিক স্থাপত্যের এই বৈশিষ্ট্যই যেন হয়ে ওঠে ‘নীরব ঘাতক’। আগুন লাগার পর ধোঁয়া বাইরে বের হতে না পেরে ভবনের ভেতরেই জমে থাকে। ধীরে ধীরে সেই ধোঁয়া বিষাক্ত গ্যাসে পরিণত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন তলায়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ভাষায়, ধোঁয়ার সঙ্গে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে মানুষ খুব দ্রুত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়, অনেক সময় বুঝে ওঠার আগেই। ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান মোহাম্মদ ইউনূস (৫২) ও সোলায়মান (২৮)।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চতুর্থ তলার ‘ওয়েস্টার্ন টেইলার্স’ নামের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। সেখানে থাকা টেইলারিং শপ ও কাপড়ের দোকানসহ অন্তত সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু এটা গ্লাস বন্দি প্লাজা, ধোঁয়াটা ঠিকমত বের হতে পারেনি। ধোঁয়ার কারণে কার্বনের পরিমাণ যখন বেড়ে যায়, তখন শ্বাসকষ্ট হয়। কয়েকজনকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, টেরিবাজারে অগ্নি দুর্ঘটনায় দুজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। এদের শরীরের বাইরের অংশে কোনো বার্ন নেই। কিন্তু শ্বাসনালী পুরোটা পুড়ে গেছে। আরেকজন আহত অবস্থায় এসেছেন। তিনি বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের অন্তত ৪৫টি মার্কেট ও ১০টি বাজার আগুনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় বাজারগুলোতে আবার রয়েছে একাধিক মার্কেট। এই মার্কেট ও বাজারগুলোর বেশির ভাগই গড়ে ওঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। বিশেষ করে রেয়াজুদ্দিন বাজার ও আশপাশের মার্কেটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ এখানে একটি মার্কেটের সঙ্গে আরেকটি মার্কেটে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই। এসব বাজারে তিনশ থেকে চারশ মার্কেটই এক ছাদের নিচে।

ভিডিও