চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসীর লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে কেউ এসে এখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর সুযোগও আর নেই। এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থাকা বিশেষ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
বুধবার (১৮ মার্চ) সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের যে কোনো সমস্যা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান পুলিশ সুপার।
সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে ভারী অস্ত্র ও বিদেশি সংযোগের নানা গুঞ্জন থাকলেও সাম্প্রতিক অভিযানে তার বাস্তব প্রমাণ তেমন পাওয়া যায়নি—এমন বিষয় নজরে আনলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সলিমপুর একটি পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় তল্লাশি কার্যক্রম চ্যালেঞ্জিং। তবুও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যতটুকু সম্ভব তল্লাশি করা হয়েছে এবং অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেগুলোতে তথ্য সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলে ও আলীনগরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পগুলো চালুর মাধ্যমে এলাকায় পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় জনগণ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং পুলিশের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করছে।’
‘আগে ভয়ের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক অপরাধের তথ্য গোপন রাখতেন। এখন ক্যাম্প স্থাপনের ফলে তারা সহজেই তথ্য ও অভিযোগ জানাতে পারছেন। ভবিষ্যতে এখানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হলে এ প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। এলাকায় যদি কোনো অবৈধ অস্ত্র কারখানা বা অস্ত্র মজুদের তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে’, বলেন নাজির আহমেদ খাঁন।
এদিকে অভিযানের পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও কাটেনি সাধারণ জনগণের মনের শঙ্কা। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আগে এলাকায় সন্ত্রাসীদের অত্যাচার ছিল এবং তিনি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পুরোপুরি ভয় কাটেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তার ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু নিরাপত্তা নয়; যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, সড়ক ও বিদ্যুৎসহ সার্বিক উন্নয়নেও কাজ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত এই এলাকাকে মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি এ জনপদ ২০০০ সাল থেকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে সন্ত্রাসীরা। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এলাকাটিতে গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দখলদারির সাম্রাজ্য। বিগত কয়েক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হলেও গত ৯ মার্চ ৩ হাজার ১৮৩ জনের যৌথ অভিযানে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। অভিযানে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার ও ২২ জনকে গ্রেফতার করলেও জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণ করা সন্ত্রাসীদের গডফাদার কেউ গ্রেফতার হয়নি। অভিযানের খবর পেয়ে আগের রাতে নিরাপদে পালিয়ে যায় তারা।