চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্তজোড়া মাঠে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ শেষে ফলনের ভারে গাছ নুয়ে পড়েছে। এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে সরিষা কাটার ধুম। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে মিরসরাইয়ে সরিষা চাষের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হেক্টরে এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়।
২০২২-২৩ অর্থবছরে সরিষা আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৩২০ হেক্টরে পৌঁছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২৫ হেক্টরে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপুর, খৈয়াছড়া, ইছাখালী ও করেরহাট ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে।
মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা এখন সরিষা কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা একরামুল হক বলেন, ‘এ বছর অনলাইন থেকে সরিষার বীজ সংগ্রহ করে ৫৪ শতক জমিতে প্রথমবার চাষ করেছি। একটি জমিতে বারি-১৭ এবং অন্যটিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় অনেকেই আগামী বছর চাষ করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
অপর কৃষক নুরুল আবছার বলেন, ‘গত বছর অল্প জমিতে সরিষা চাষ করেছিলাম। লাভ বেশি হওয়ায় এবার তিনটি জমিতে চাষ করেছি। নিজেদের উৎপাদিত সরিষা ভেঙে তেল তৈরি করে সারা বছর খাই, এতে বাজার থেকে সয়াবিন তেল কিনতে হয় না।’
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনজুর হায়দার জানান, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জোরারগঞ্জ এলাকায় চলতি বছর ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। কৃষকদের আগ্রহ ও সরকারি সহায়তায় প্রতি বছরই সরিষা চাষ বাড়ছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার কৃষক সরিষা চাষ করেছেন। কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরিষা চাষ স্থানীয়দের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি মিরসরাইয়ের স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’