ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পোশাক বিক্রির কর্মযজ্ঞ। সেই সাথে বেড়েছে পোশাকের দাম ও এক দেশের পণ্য অন্য দেশের বলে বিক্রির ঘটনা। এর ফলে ক্রেতারা যেমন দামে প্রতারিত হচ্ছেন তেমনি ঠকছেন পণ্যের মানেও। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতেও থামছে না এমন প্রতারণা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নগরের ফিনলে সাউথ সিটিতেও প্রমাণ মিলেছে এমন কর্মকাণ্ডের। এ সময় চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
জানা গেছে, কিছু পোশাকে পাকিস্তানি ব্রান্ড হুবহু লেখা আছে তবুও মুখে বলা হচ্ছে বাংলাদেশি ব্রান্ড। আর কিছু পণ্য আছে যেগুলো পাকিস্তানি বা বাংলাদেশি কোনোটাই উল্লেখ নেই। তবে এসব পোশাক বিদেশি বলে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক পোশাকে উল্লেখ নেই মূল্যও।
শুধু তাই নয়। অনেক বোরকায় দেখা গেছে মেড ইন ইউএই লেখা। কিন্তু এই তথ্যের বিপরীতে কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি দোকানিরা। এসব বোরকা সাধারণ ভোক্তার কাছে মেড ইন সৌদি আরব, মেড ইন ইরান বলে বিক্রির করে দেওয়া হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, এসব অভিযোগে for you ABAYA ১৫ হাজার টাকা, Guzal ৩০ হাজার টাকা ও ইরানি বোরকা হাউসকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া খোলা মার্কেট থেকে লুঙ্গি এনে খাদিঘর ব্রান্ডের পণ্য হিসেবে বিক্রি করছে। তাদেরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার দেশীয় শিল্পে তৈরি পাঞ্জাবি ‘বাংলাদেশ’ ও ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ দুই দেশের ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি এবং দামের অসঙ্গতি পাওয়ায় ‘রাজস্থান পাঞ্জাবি’ নামে একটি অভিজাত বিপণি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল রোববার পোশাকের গায়ে ডাবল স্টিকার লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিযোগে জেন্টেল পার্ককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক নিজেদের উৎপাদিত বলে বিক্রি করায় শৈল্পিক নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।