বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪ টা। অফিস থেকে বেরিয়ে আগ্রাবাদ মোড়ে ৪ নং রুটের বাসে উঠে বহদ্দারহাট যাচ্ছেন মো. জাহেদ উল্লাহ। বাসটি ২নং গেট মোড় পৌঁছালে জাহেদ উল্লাহর ফোন বেজে উঠে। বাসা থেকে স্ত্রী ফোন করেছেন। ইফতারের জন্য কিছু জিনিস আনতে হবে। জাহেদ উল্লাহ তার স্ত্রীর সাথে কথা বলার এই ফাঁকে বাসের জানালা দিয়ে হঠাৎ ছোঁ মেরে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে ছিনতাইকারী দিল দৌড়। জাহেদ সাহেব গাড়ি থেকে নামতে নামতে ততক্ষণে শতলোকের সাথে মিশে গেছে ছিনতাইকারী। মুহুর্তেই হাওয়া হয়ে গেল তার শখের আইফোনটি।
সম্প্রতি এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে নগরীতে। ছোঁ মেরে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে যায় বলে এসব ছিনতাইকারীদের লোকে ‘চিল পার্টি’ নাম দিয়েছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলেও ছিনতাইকৃত এসব মোবাইল বা জিনিসপত্র ফিরে পাওয়া প্রায়ই দুস্কর ব্যাপার। তাই অনেক ভুক্তভোগী আর পুলিশের কাছেও যাচ্ছেন না। আর এতে দায়মুক্ত থাকছে পুলিশ প্রশাসনও।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। ঈদ উপলক্ষে আমাদের কয়েক স্তরের পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। বাহিনীর পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী সদস্যরা রয়েছেন। নাগরিকদেরকেও পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করতে হবে। তাদেরকেও সচেতন থাকতে হবে।
জানা গেছে, নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লা, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি, আগ্রাবাদ, বারিকবিল্ডিং, সল্টগোলা ক্রসিং, আউটার রিং রোড, বায়েজিদ লিং রোড, হামজারবাগ, টেকনিক্যাল, মুরাদপুর, হালিশহর, অলংকার, নতুনব্রিজ, চামড়ার গুদাম, কল্পলোক আবাসিক, তুলাতুলি, বলিরহাট, আমবাগান, কমার্স কলেজ রোড, শুভপুর বাসস্ট্যান্ড, কদমতলী, সিআরবি, কাপাসগোলা, পোর্ট কানেকটিং রোড, চাক্তাই সিটি গেইট চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকা। ছিনতাইকারীরা সংঘবদ্ধ চক্র। এদের নেটওয়ার্কও শক্ত। এই দলে ইনফর্মার হিসেবে ভাসমান স্তরের পথশিশু বা কিশোর-কিশোরীরাও জড়িত। এরা গাড়িতে অন্যমনস্ক ও অসতর্ক যাত্রীদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য দেয় ছিনতাইকারীদেরকে।