বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের মশা তাড়াবে ‘আমেরিকান প্রযুক্তি’

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৩

দিনের আলো কমতেই চট্টগ্রাম নগরে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ে মশার ঝাঁক। রমজানে একসাথে বসে ইফতার কিংবা তারাবির নামাজ কোনটাই শান্তিতে শেষ করা সুযোগ নেই। অফিস-আদালত, কল-কারখানা, হাসপাতাল কিংবা সড়কের পাশের ফুটপাত। একটু শান্তিতে বসে চাও খাওয়ার জো নেই। মনযোগ দিয়ে কাজ কিংবা আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে পা বা হাতের দিকে তাকালেই চোখে পড়বে জোড়ায় জোড়ায় মশা। শুধু সন্ধ্যা কিংবা রাত নয় দিনভরও এভাবে মানুষকে জ্বালাতন করছে নগরীর মশা।

তবে এবার হয়তো বন্ধ হবে এসব মশার উৎপাত। কারণ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরীর মশা মারতে এখন থেকে ব্যবহার করবেন ‘আমেরিকান প্রযুক্তি’র বিটিআই মেডিসিন ছিটানোর জন্য ৬টি আধুনিক হ্যান্ড স্প্রে মেশিন। প্রিমো হেলথ কেয়ার দেওয়া এসব মেশিন নিশ্চিতভাবে নিস্তার দিবে এমনটাই আশা নগবাসীর। অনেকেই বলছেন, ‘মশা অথবা মানুষ’ আমেরিকান প্রযুক্তি মারতে সেরা!

জানা গেছে, এসব মেশিন শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত প্রফেশনাল গ্রেড স্প্রে মেশিন, যার মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকরভাবে লার্ভিসাইড বা কীটনাশক ছিটানো সম্ভব। প্রতিটি মেশিনে বড় ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক এবং শক্তিশালী স্প্রে ব্যবস্থা রয়েছে, যার সাহায্যে প্রায় ১২ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ওষুধ ছিটানো যায়। এতে অ্যান্টি-ভাইব্রেশন প্রযুক্তি ও আরামদায়ক কাঁধের বেল্ট থাকায় দীর্ঘসময় কাজ করলেও অপারেটরদের জন্য ব্যবহার সহজ হয়।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে মশার উপদ্রব কমাতে আগামী সপ্তাহ থেকে ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হবে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এখন আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড বিটিআই ব্যবহার করছে চসিক। এই প্রযুক্তি মশার লার্ভা ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় হঠাৎ করেই মশার বিস্তার বৃদ্ধি পায়। নগরবাসী যাতে মশার কারণে দুর্ভোগে না পড়েন, সে জন্য আগামী সপ্তাহ থেকে সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে।

মেয়র আরও বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ফগিং কার্যক্রমের পাশাপাশি লার্ভিসাইড ছিটানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমন্বিতভাবে কাজ করে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব বা পানির পাত্রে কোথাও যাতে পরিষ্কার পানি জমে না থাকে সেদিকে সবার নজর দিতে হবে। নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা থাকলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

মেয়র বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে। নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় চসিকের এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।

ভিডিও