তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ, আর সরকার ও প্রশাসন কেবল তাদের সেবক। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্থায়ী সরকার, আমরা নির্বাচিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করি। তাই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।’
বুধবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাহী বিভাগকে দলীয়করণ বা অপব্যবহার থেকে বিরত রেখে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদের আগেই দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একই সঙ্গে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিযন্ত্র ও কৃষিঋণ সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতি রোধে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কৃষিঋণের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন।
এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা কর্মসূচি চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কার্ডভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।
এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে চাই সেবক হিসেবেই।’
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নামফলক স্থাপন করেছিলেন, যা দীর্ঘদিন গোপন ছিল। পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রেসক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন।