শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৯

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিসের এই কমিটি বিস্ফোরণের সম্ভাব্য সব কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি পুরো ভবনটি ঘুরে দেখে।

অনুসন্ধানকালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রান্নাঘরের চুলা, গ্যাসের লাইন, বিদ্যুতের তারসহ অন্যান্য কক্ষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সেই সঙ্গে ভবনের লিফটে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হয়। এদিকে, এ ঘটনায় এখনো আতঙ্কিত ভবনের বাসিন্দারা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে তদন্তে সহায়তার জন্য আগে থেকে চিঠি দেয়া হলেও ভবন মালিক অসহযোগিতা করছেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত টিমের প্রধান মো. জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, ঘরের ভেতর গ্যাস জমে বিস্ফোরণ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্তে উঠে আসবে। আমরা প্রত্যেকটা রুমে তল্লাশি করেছি। রেসকিউ টিম, স্পেশাল টিমসহ সবাই এখানে এসেছি। বিস্ফোরণের প্রধান কারণটা আমরা উদ্ঘাটন করতে চাই।

নানা সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিভিন্ন রকম মন্তব্য পেয়েছি। কেউ বলেছে লিফটের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, কেউ বলেছে এসি বা আইপিএস থেকে হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছে, বাইরে থেকে জানালা দিয়ে বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য বা কেমিক্যাল ছুড়ে মেরে ইচ্ছাকৃতভাবে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা রান্নাঘর দেখেছি, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইনের গ্যাস চেক করেছি। বদ্ধ পরিবেশে মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব ৫ থেকে ১৫ শতাংশ হলে এবং সেখানে কোনো স্পার্ক হলে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তদন্ত করে কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মতামত নেয়া হবে।’

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আমরা চিঠি দিয়ে আসছি, কিন্তু মালিকপক্ষের কোনো প্রতিনিধি আসেননি। তিনি তার কেয়ারটেকারকে রেখেছেন, যিনি সব কিছুর সদুত্তর দিতে পারছেন না। সেই সঙ্গে ভবনে সেফটির বিষয়ে কোনো কিছু দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় শাখাওয়াত হোসেনের বাসায় হঠাৎ এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতিমধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ভিডিও