চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ‘এস ড্রাইভ’ অভিযানের আউটপুট দেখে জনপ্রিয় শিশুতোষ কার্টুন ‘টম এন্ড জেরি’ সিরিজের কথা মনে পড়ছে। সিরিজগুলোতে দেখা যায়, টম আর জেরির মধ্যে সারাদিন লুুকোচুরি খেলা চলছেই। দুষ্ট জেরিকে শায়েস্তা করতে টম নানা ফন্দি এঁটে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়না। জেরিকে সে দমাতেই পারেনা। শায়েস্তাও করতে পারে না। জেরির শয়তানি বুদ্ধির কাছে টম বারবার পরাস্ত আর দিশেহারা।
শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণসহ নানা অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান চালাচ্ছে নগর পুলিশ। সোমবার রাতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আগাম ঘোষণা দিয়ে অভিযানে নামে সংস্থাটি। তবে যে উদ্দেশ্যে এ অভিযান। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী, যাদেরকে ধরতে এ অভিযান; তারা যেন বরাবরই অধরা। পুলিশের বক্তব্য, বড় সাজ্জাদ গ্রুপের প্রশিক্ষিত শুটারদের ধরতে তারা নির্দিষ্ট আস্তানায় রেড দিচ্ছে। তবে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা নানা কৌশলে পালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পালানোর সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও করছে।
নগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে বায়েজিদ হরিদাশ পাড়া ও শহীদ পাড়ায় বড় সাজ্জাদ গ্রুপের শুটার মিজানের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ । তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শুটার মিজান ও তার সহযোগীরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তবে এ অভিযানে ২ জনকে গ্রেপ্তার, ২টি পিস্তল, একটি এসএমজি, পাইপগান, ৪৫৫ রাউন্ড গুলি এবং ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার গভীর রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী বাজার এলাকায় বড় সাজ্জাদের ভাতিজা সন্ত্রাসী মোহাম্মদকে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ ঘটনায়ও সন্ত্রাসী মোহাম্মদকে ধরতে পারেনি তারা। তবে দুই সহযোগী মোহাম্মদ ইসতিয়াক হাসান ইমন ও মো. জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ নিয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, বড় সাজ্জাদের ভাতিজা মোহাম্মদ বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলি বাজারের পাশে একটি ভাড়া ঘরে অবস্থান করছেন–এমন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় বড় সাজ্জাদের ভাতিজা মোহাম্মদ এবং সহযোগী ইকবালসহ কয়েকজন পালিয়ে যান। তবে ধাওয়া করে দুজনকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি এসএমজি, একটি পাইপগান, ৪৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১৪টি শটগানের কার্তুজ ও একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি চাপাতি, একটি রামদা, তিনটি ছোরা, একটি কাঁচি, ৮৮০ পিস ইয়াবা, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি বডি-ওর্ন ক্যামেরা, স্প্রে কিট, একটি লোহার বেসবল ব্যাট, ড্রিল মেশিন, একটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে এ পর্যন্ত ৭০ জনের অধিক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।