নির্বাচনোত্তর চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি,শিশুকে ধর্ষণ পরবর্তী গলা কেটে জঙ্গলে ফেলে দেয়ার মত ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ পদ্ধতি অবলম্বন করছে। এমন অবস্থায় তাদের কার্যকারিতা নিয়েও রীতিমত প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আতঙ্কিত চট্টগ্রামবাসী এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়।
১ মার্চ রোববার সীতাকুণ্ড কুমিরা মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে ইরা (৭) নামের এক শিশুকন্যাকে ফুসলিয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ইকোপার্কে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই কন্যাশিশুটিকে গলা কেটে দুর্গম জঙ্গলেই ফেলে রাখে ওই পাষন্ড। তবে প্রাণ থাকায় গলাকাটা শিশুটি বাঁচার আশায় ইকোপার্কের জঙ্গলের নির্জন পথ ধরে হাঁটতে থাকে। পরবর্তীতে সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে একদল সন্ত্রাসী মুহুর্মুহু গুলি চালায়। চাঁদার দাবিতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা তার নির্দেশে এ গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই বাসায় গুলি করেছিলেন সন্ত্রাসীরা।
এ ব্যাপারে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সেদিন সকালে নামাজ পড়ে আমরা সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা গুলি করতে থাকে। ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি করেছে। আমাদের বাসায় পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যরাও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এর আগেই সন্ত্রাসীরা চলে যায়। সন্ত্রাসীদের হাতে পিস্তল, চায়নিজ রাইফেলসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল। অনেকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিল। চিন্তা করছি মামলা করে কী হবে? বাসায় পুলিশ আছে, এর মধ্যেই ওরা গুলি করেছে।
গতকাল সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে নিজ কক্ষে তারাবির নামাজ পড়ছিলেন ছেনুরা বেগম নামে ষাটোর্ধ্ব এক মহিলা। এমন সময় পাওনা টাকার জন্য ঘরে ঢুকে ছেনুরা বেগমকে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে তারই আপন ছোটভাই জানে আলম। বড় বোনকে হত্যা করে বোরকা পড়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা জানে আলমকে আটক করে। পরে হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
একের পর এক আলোচিত এসব ঘটনায় সৃষ্ট জনআতঙ্ক নগর পুলিশ বিশেষ একটি অভিযান শুরু করেছে। রোববার রাতে আগাম ঘোষণা দিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ নামে বিশেষ অভিযান চালায়।
তবে এ অভিযানে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অভিযানে ‘টিকটক রণি’ নামে এক সন্ত্রাসীসহ ৬৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ অভিযানে কিছু কার্তুজ,গুলি ও মাদকও উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিকালে দামপাড়াস্থ সিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে নগর পুলিশ।
এ ব্যাপারে নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এস ড্রাইভ’ অপারেশন একধরনের কৌশল। অপরাধীরা আগেই জানতে পারলে তারা স্থান পরিবর্তন বা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে। এতে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। অতীতেও এ কৌশলে ভালো ফল পাওয়া গেছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।