বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

‘খবরদার’— চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি এমপির

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫০

‘খবরদার! দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে রেহাই নেই’— এমন কঠোর হুঁশিয়ারিতে সরব হয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তাঁর এই বার্তা ইতোমধ্যে ফটোকার্ড আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

সোমবার নিজের ভেরিফাই ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ফটোকার্ডে সাঈদ আল নোমান লিখেছেন, ‘খবরদার করে বলে দিচ্ছি। চট্টগ্রামজুড়ে অনেক কিছু শুনতে পাচ্ছি। আমার বা আমাদের দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি কোনও চাঁদাবাজি করতে চায়, তার রেহাই হবে না।’

তাঁর এই ‘খবরদার’ মূলত তাদের উদ্দেশেই— যারা তাঁর বা তাঁর দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, তদবির বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগে জড়িত। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ, ছোট-বড় অঙ্কের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ নগরবাসীর কাছে এ বক্তব্য যেন দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবহন ভাড়া কমবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্যের স্ট্যাটাস ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হোসাইন দীপু নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘এ বক্তব্যকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে রূপ দিতে হবে। প্রতিটি এলাকায় সামাজিক ক্যাম্পেইন করতে হবে। প্রয়োজনে একটি হটলাইন চালু করে শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে এমপি সাহেবের নির্দেশনায় লিফলেট বিতরণ করা যেতে পারে। জুমার খুৎবায় ইমাম সাহেবের মাধ্যমে এমপি সাহেবের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছানো যেতে পারে। মোট কথা, আপনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ করতে পারলেই আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক চট্টগ্রাম বিনির্মাণে সফল হবো, ইনশাআল্লাহ।’

জুলফিকার আলী জুয়েল লিখেন, ‘দলের নাম দিয়ে কিছু মানুষ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব হাসিল করছে। নেতারা কিছু কর্মীদের ভুল পথে পরিচালিত করে নিজেদের শক্তি দেখাতে চায়। এতে প্রতিটি গলিতে উত্তাপ বেশি থাকে। সামান্য লাভের জন্য নির্লজ্জ হয়ে গলির নেতারা বিভিন্ন অবৈধ ইনকামের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরিশেষে বদনাম চলে যায় দলের কাঁধে। এগুলো শাসন ও আইনের আওতায় নিয়ে বাকিদের বুঝিয়ে দিতে হবে, দল কখনো এসবের সাপোর্ট করবে না।’

রাজীব আহসান নাদিম নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘এই বার্তা শুধু দলিয় লোকজনের জন্য নয়, দলমত নির্বিশেষে যারা অপকর্মের সাথে জড়িত সকলের জন্য সতর্কবার্তা। এর সাথে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত সকলকে বুঝতে হবে এমপি সাহেব যা বলেছেন তা আপনাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চান। এমপি সাহেবের হাতকে শক্তিশালী করি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফটোকার্ডে ‘খবরদারি’ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে দেয়া এক বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘যেখানেই অভিযোগ উঠবে, সেখানেই তৎক্ষণাৎ দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণ আমাদের পেজে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলাখুলি আলোচনা করে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করছেন এবং আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে সরাসরি জানাচ্ছেন। এই সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে আশা করা যায়, অচিরেই চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির মতো অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।’

ভিডিও