বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নির্বাচন নিয়ে গ্রিন সিগন্যালে মেয়র শাহাদাত

উজ্জ্বল দত্ত

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি আগামী রোববার। মেয়াদ শেষ হলেও নগর পিতার চেয়ারে তাকে বহাল রাখছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়- এমনটা বলেছেন স্বয়ং মেয়র। তবে এখানেই শেষ নয়, আগামী সিটি নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে ডা শাহাদাত হোসেনকে টিকিট দেয়া হতে পারে

তবে দলীয় নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে, আগামী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. শাহাদাত হোসেন দ্বিতীয়বারের মত দলের টিকিট পেতে যাচ্ছেন। শাহাদাত হোসেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে আগ্রহী ছিলেন। এ নিয়ে বিএনপির উচ্চ মহলে চেষ্টা তদবিরও চালিয়েছেন তিনি। তবে তাকে আবারও মেয়রের টিকিট দেয়া হবে – দলীয় হাই কমান্ড থেকে এমন সিগন্যাল পাওয়ায় ডা. শাহাদাত নাকি জাতীয় নির্বাচন করেননি।

মেয়রে থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করার আইন কি ?

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার আইন (যেমন- পৌরসভা আইন ২০০৯) অনুযায়ী, মেয়র বা কাউন্সিলররা স্বপদে (পদে) থেকেই পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন; পদত্যাগ বাধ্যতামূলক নয়। তবে, যদি কোনো কাউন্সিলর মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান, তবে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে ১০০ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়।

আগামী সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়রের অভিব্যক্তি :

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন মেয়র ডা .শাহাদাত হোসেন।

সেখানে তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে অনেক কথাই বলেছেন। সেখানে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের অভিব্যক্ত তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, জনগণ আমাকে যখন ভোট দিবে, তখন আমি মনে করব, হ্যাঁ এত লোক আমাকে পছন্দ করে। তখন নিজের উপর কনফিডেন্স লেভেলটা বাড়বে যে, আমাকে চার লাখ লোক পছন্দ করেছে। যেকোনো রাজনীতিকের জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, একজন রাজনীতিকের স্বার্থকতা কোথায়? একজন রাজনীতিক কেন রাজনীতি করেন? দিনশেষে একজন রাজনীতিবিদের কতটুকু জনসমর্থন আছে, ওটার জন্যই কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ রাজনীতি করেন।

তিনি বলেন, আমি যখন দেখব যে, জনগণ আমাকে চাচ্ছে না। তখন আমার নিজেরই উচিত রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া, এটা আমি মনে করি। এই কালচার যতক্ষণ ডেভেলপ না হবে, গণতন্ত্র বিকশিত হবে না।

তিনি বলেন, আমি আশা করব, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চাইতে আরো বেশি ক্রেডিবল স্থানীয় সরকার নির্বাচন হোক। সমস্ত দল সেখানে অংশগ্রহণ করুক। তাদের মতামত ব্যক্ত করুক।

মেয়র পদে বহাল থাকা :

মেয়র পদে বহাল থাকা প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার আইনের ৬ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হবে। যেহেতু নির্বাচিত মেয়র, তাই প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অফিসিয়াল অর্ডার দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।

ভিডিও