পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি— কোথাও যেন অবৈধ পার্কিং ও ভাসমান হকারদের কারণে যান চলাচল ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।
রমজান মাসে অফিস-আদালত ছুটির পর এবং ইফতারের আগ মুহূর্তে নগরীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, টার্নিং পয়েন্ট ও শপিংমলের সামনে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং এবং রাস্তার পাশে ভাসমান ভ্যান বা অস্থায়ী দোকান বসানোর কারণে সড়কের প্রশস্ততা কমে যায়। ফলে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে এবং সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
সিএমপি ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রং পার্কিং ও অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, রমজান মাসে সড়ক সচল রাখতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পথচারীরা যেন নির্বিঘ্নে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারেন এবং ইফতারের আগে মানুষ স্বস্তিতে বাসায় ফিরতে পারেন, সে জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শপিংমলের সামনে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সৌনাক মজুমদার জানান, নিয়মিত ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ গাড়ি ও রং পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাস্তার পাশে ভাসমান ভ্যান বা অবৈধ দোকানের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অবৈধ পার্কিং ও সড়কের পাশে ভাসমান/অবৈধ দোকানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন সিএমপি এলাকায় প্রবেশ রোধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভারী যানবাহনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
ট্রাফিক বিভাগ আশা করছে, অবৈধ পার্কিং ও ভাসমান হকারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান এবং নগরবাসীর সহযোগিতায় রমজানে নগরীর সড়কে স্বস্তি ফিরবে।