বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সৌহার্দ্যের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২১

ভোটের পর থমথমে পরিস্থিতি। ফলাফল ঘোষণা করতেই মিছিল, হামলা-ভাংচুর। প্রার্থীরা ব্যস্ত থাকতেন কাদা ছোড়াছুড়িতে। বিগত র্নিবাচন পরবর্তী সময়ে ঠিক এমনটাই ঘটেছে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পাল্টে গেছে সেই চিত্র। রাজনীতির মাঠে ‘কথার লড়াই’ চললেও এবার প্রার্থীরা দিচ্ছেন পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা। বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। বিতরণ করছেন মিষ্টি, ব্যক্ত করছেন একসাথে কাজ করার প্রত্যয়। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে এবারের নির্বাচন যেমন ছিলো উৎসবমুখর তেমনি নির্বাচন পরবর্তী সময়ও কাটছে উৎসাহ উদ্দীপনায়।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে এবার ১৪টিতে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থীরা। আর ২টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে রক্তারক্তি দেখা গেলেও নির্বাচনের পরিবেশে বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। নির্বাচনের পর চট্টগ্রামে দেখা গেছে সৌজন্যের রাজনীতি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে সৌহার্দ্য ও সৌজন্যমূলক রাজনীতির এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী উত্তাপ কাটিয়ে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা পারস্পরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

জানা গেছে, নির্বাচনের পর শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একে এম ফজলুল হকের অফিসে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা কুশলাদি ও সৌহার্দ্য বিনিময় করেন এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে দুই নেতা কালুরঘাট সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন, যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে বিজয়ী মাওলানা জহিরুল ইসলাম পরাজিত বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উন্নয়নে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরাজিত প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিনকে। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের বাড়িতে মিষ্টি ও ফুল নিয়ে ছুটে যান। এ সময় দুজনে মিলেমিশে একটি আলোকিত মিরসরাই গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এদিকে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড ও সিটি কর্পোরেশনের আংশিক আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরীও মিষ্টি নিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পরাজিত জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরীর সাথে।

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে বিজয়ী বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পরাজিত জামায়াতের প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদার। এ সময় বিজয়ী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীকে বুকে টেনে নেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ চালানোর ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিজয়ী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন পরাজিত জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম। চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে বিজয়ী বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নে বিজয়ী প্রার্থীকে সর্বাত্মক সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম।

এ ছাড়া অন্যান্য আসনের বিজয়ী ও পরাজিতরাও একে অন্যের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাব ইতোমধ্যেই চট্টগ্রামে প্রতিফলিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক সৌহার্দ্য গড়ে উঠলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়বে।

ভিডিও