শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নতুন সরকারের কাছে শান্তি ও স্বস্তি চায় চট্টগ্রামের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৮
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকারের কাছে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, স্বস্তির জীবন এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের উপজেলাগুলোর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রধান দাবি—নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূর করা এবং সর্বস্তরে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার রিকশাচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘আগের মতো আয় নেই, কিন্তু বাজারের দাম আকাশছোঁয়া। পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কষ্ট হয়ে গেছে। নতুন সরকার যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে।’

একই এলাকার আরেক রিকশাচালক আবদুল মান্নান বলেন,‘চাল-ডাল কিনতে গেলেই টাকা শেষ হয়ে যায়। আয় বাড়ে না, খরচ বাড়ে। আমরা চাই জিনিসপত্রের দাম কমুক।’

চান্দগাঁও এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই চাঁদা দিতে হয়। কোথাও গাড়ি দাঁড় করালেই টাকা চায়। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রাণের দাবি—এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।’

নগরের এক রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালক মো. নাজমুল হাসান বলেন,‘পড়ালেখা শেষ করেও চাকরি পাইনি বলে রাইড শেয়ার করছি। তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ নেই। নতুন সরকারকে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, না হলে সবাই দেশ ছাড়বে।’

কর্ণফুলী এলাকার গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন,‘সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। তেল, চাল, ডাল—সবকিছুর দাম বেশি। নতুন সরকারকে আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

চট্টগ্রাম নগরের একটি বাজারে ছোট ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান বলেন,‘আমরা চাই নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহযোগিতা দরকার। কর্মসংস্থান বাড়লে দেশের অর্থনীতিও ভালো হবে।’

রাউজান উপজেলার কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন,‘সার ও বীজের দাম বেশি। সরকার নির্ধারিত দামে অনেক সময় পাওয়া যায় না। কৃষি সহায়তা যেন প্রকৃত কৃষকদের হাতেই পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন,‘পড়াশোনা শেষে চাকরির নিশ্চয়তা নেই। নতুন সরকারকে শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. শাহজাহান কবির বলেন, ‘হাসপাতালে সিট পাওয়া যায় না। চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত করা দরকার। গ্রাম পর্যায়েও ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা চাই।’

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয়ী হয়েছে বিএনপি। বাকি দুই আসনে জিতেছে জামায়াতে উসলামীর প্রার্থীরা। নির্বাচনে একক আধিপত্যর পর এবার সরকারের মন্ত্রী সভায় চট্টগ্রাম থেকে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

ভিডিও