উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চট্টগ্রামে এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে লড়েছেন অনেকে। তারমধ্যে বিএনপির ৪ জন ও জামায়াতের এক প্রার্থী প্রথম চেষ্টাতেই সফলতার মুখ দেখলেন। যাদের নিয়ে স্থানীয় সমর্থকদের মাঝে বিরাজ করছে বাড়তি আমেজ।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের মোট ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১১৫ জন প্রার্থী। তারমধ্যে ১৪টিতে জয়ী হয়েছে বিএনপি। আর বাকি ২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
এবার প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হওয়া চট্টগ্রামের পাঁচ সংসদ সদস্য হলেন-চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী হওয়া বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনের জয়ী প্রার্থী বিএনপির সাঈদ আল নোমান। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের জয়ী প্রার্থী বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের জয়ী বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ।
এদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে প্রথম সুযোগেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এই আসনে ধানের শীষের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ‘কাটে’ বিএনপির প্রার্থীর।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, অনেক বছর পর জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভোটাররা আমাকে জয়ী করেছেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আশা করছি, সংসদে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারব।
আরেক বিজয়ী সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, আমার আসনের মানুষের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। এখানকার মানুষ আমাকে চেনেন ও বিশ্বাস করেন। সেই আস্থার কারণেই প্রথমবার নির্বাচন করেও আমি জয়ী হয়েছি। আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, নির্বাচনের দিন চট্টগ্রামের কোথাও কোনো অভিযোগ, অনুযোগ, দুর্ঘটনা কিংবা সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। ফলাফল ঘোষণার পরও কোনো প্রার্থী আপত্তি জানাননি এবং সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ফলাফল মেনে নিয়েছেন।