উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে যবনিকা পড়ল দিনভর চলা এই মহাযজ্ঞের। এখন চলছে ভোট গণনা এবং ফলাফলের অপেক্ষা।
সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তা বিরতিহীনভাবে চলে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৪টার সময় যেসব কেন্দ্রে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেবল তাদের ভোট নেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে গণনা প্রক্রিয়া।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ দেশের ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন। একই সঙ্গে ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের মত জানালেন তারা। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন হবে।
সারাদেশে ভোটগ্রহণ ছিল অনেকটাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তবে দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চারজন ভোটারের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনিয়মের কিছু অভিযোগও নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে।
দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার পর এখন দেশবাসী তাকিয়ে আছে ফলাফলের দিকে— কে গড়বে পরবর্তী সরকার এবং সংবিধান সংস্কারে জনগণের রায় কী আসে, তা জানার অপেক্ষায় পুরো জাতি।