ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক আগমুহূর্তে একের পর এক জামায়াত নেতার টাকা বহন ও বিতরণ সংক্রান্ত ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিমানবন্দর থেকে অর্ধকোটি টাকাসহ নেতা আটক, আবার কোথাও ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগ— এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটক করার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, এটি তাদের নেতাদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে সাজানো ‘নাটক’। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, টাকা যদি বৈধ হয় এবং তার উৎস ও ব্যবহারের খাত দেখানো যায়, তাহলে বহনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
বিমানবন্দরে অর্ধকোটি টাকাসহ আটক
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তি নিজেই বলেছেন তার কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকার বেশি। টাকার উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন প্রধান দাবি করেন, ওই টাকা তার ব্যবসার, বিশেষ করে গার্মেন্টস সংক্রান্ত লেনদেনের জন্য বহন করছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মুরাদনগরে টাকা বিতরণের অভিযোগ
এদিকে কুমিল্লার মুরাদনগরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, তিনি ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা দিচ্ছিলেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত বলছে, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। দলের দাবি, নির্বাচনী এজেন্টদের খাবার খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা ছিল, পরে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে।
জামায়াতের অবস্থান: ‘নেতাদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপচেষ্টা’
ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, অভ্যন্তরীণ রুটে বৈধভাবে টাকা বহনে কোনো আইনগত বাধা নেই, এমনকি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকেও অনাপত্তি ছিল।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসার প্রয়োজনে নগদ অর্থ বহন করা স্বাভাবিক। কিন্তু এটিকে ভোটের সঙ্গে জড়িয়ে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’
ইসির বক্তব্য: ‘বৈধ হলে ৫ কোটিও বহনে বাধা নেই’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভোটের সময় টাকা বহনের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। টাকার উৎস ও ব্যবহারের খাত বৈধভাবে দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও কোনো সমস্যা নেই।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ওই টাকা ভোটে প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে বিষয়টি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি দেখবে। আর টাকা অবৈধ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।