চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে চোখ ধাঁধানো টর্চের আলো ফেলে ও মুখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার ৫ নম্বর সারোয়াতলী ইউনিয়নের গগন সেন বাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী গৌতম চৌধুরী (৪৬)।
অভিযোগে বলা হয়, শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে ‘লোকনাথ ক্লথ স্টোর’ নামে কাপড়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবে ও কাজ করেন গৌতম চৌধুরী। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সারোয়াতলী ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার পথরোধ করে।
গৌতম চৌধুরী বলেন, তারা আমার মুখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে এবং ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এরপর সাথে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ১৮ হাজার টাকা দামের তিনটি মোবাইল সেট কেড়ে নিয়ে যায়। ওই যুবকদের বয়স ২৮ থেকে ৩০ বছর হবে। তারা রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে ওত পেতে ছিলো।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ ইউনিট বন্ধ
তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। পানির সংকটের কারণে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল থাকা দুটি ইউনিট থেকে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১০ জুন) ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পানির অভাবে বাকি তিনটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
সূত্র জানায়, বছরের এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিকভাবে পানির স্তর ৭৮ দশমিক ৩৪ মিন সি লেভেল (এমএসএল) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭৩ দশমিক ৯১ এমএসএলে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে দুটি ইউনিট সচল রেখে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে সচল থাকা বাকি দুটি ইউনিটও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুড়াছড়ি উপজেলার নৌ-যোগাযোগও হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও হ্রদের পানি আরও কমে গেলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বে-টার্মিনাল ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী প্রশ্ন করেন, ২০২৪-২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গড় সময় কত দিন ছিল? কলম্বো, সিঙ্গাপুরের তুলনায় আমাদের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম তিনগুণ বেশি কেন? বে-টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল কবে পুরোপুরি চালু হবে এবং তাতে জট কত শতাংশ কমবে?
জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্গো ওঠা-নামা করতে গড় সময় কমে এখন ২ দশমিক ১৩ দিন লাগছে। বে-টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাদার ভেসেল প্রবেশে জোয়ার-ভাটার নির্ভরতা ও নাব্য সংকট দূর হবে। এর ফলে বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন সম্ভব হবে।
বন্দরের ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে কয়েকটি বিদেশি কোম্পানিকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মোংলা বন্দরে চীনের অর্থায়নে তিনটি টার্মিনাল তৈরি করা হবে। মোংলা বন্দর থেকে চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে রাজস্ব এসেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন ও বন্দর ব্যবস্থাপনা গতিশীল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে বলে আশা করা যায়।
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ‘ধর্ষণের’ মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আগামীকাল আরও ১২ জন সাক্ষ্য দিবেন বলে জানা গেছে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, শুরুতে শিশুটির বাবা মামলার বাদী সাক্ষ্য দেন। এরপর শিশুটির নানি, নানা, খালা এবং শিশুটির পরিবার যে কলোনির বাসিন্দা সেখানকার কেয়ারটেকার সাক্ষ্য দেন। তারপর বেলা সোয়া ১টায় নামাজের বিরতিতে যায় আদালত। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সাক্ষীদের জেরাও করেন। বিরতির পর আরো ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের করা হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণের বিরতি চলাকালে আসামি মনির হোসেনের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী জি এম জাহেদ হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শিশুটি নানি। তিনিও ‘আই উইটনেস’ নন। শিশুটির নানি জেরায় জানিয়েছেন, আসামি মনির হোসেন শুরুতে কিছু স্বীকার করেননি। এলাকাবাসী মারধর করে স্বীকারোক্তি নিয়েছে।
আসামি মনির হোসেনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী জি এম জাহেদ হোসেন বলেন, শয়তানের প্ররোচনায় সে এই কাজ করেছে বলেছিল। তবে ধর্ষণ নয়, …। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরা করা হলে বুঝা যাবে আসামির কতটুকু দোষ আছে। মেডিকেল অফিসারের সাক্ষ্য ও জেরায় জানা যাবে আসামির প্রকৃত অপরাধ কী। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি সাজা পাক।
প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট গ্রহণ এবং ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি ও ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করেছে পুলিশ। এ মামলার মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে সাঁতার কাটতে নেমে পানিতে ডুবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার চক্রপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইনতিশার হাসনাত (২২) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মো. বেলালের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা চার বন্ধু মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি বেড়াতে যান। বিকেলে তারা নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে বের হন। একপর্যায়ে তাদের নৌকা চক্রপাড়া সংলগ্ন বালুচর এলাকায় পৌঁছালে সবাই হ্রদে সাঁতার কাটতে নামেন।
এ সময় ইনতিশার হাসনাত সাঁতার কাটতে কাটতে হ্রদের গভীর অংশে চলে গেলে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার লিটন কান্তি দেবের নেতৃত্বে একটি ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
পরে হ্রদের প্রায় ২৫ ফুট গভীর তলদেশ থেকে ইনতিশারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-পরিচালক নিউটন দাস বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমাদের ডুবুরি দল বিকেলে ঘটনাস্থল গিয়ে পৌঁছায়। এরপর আশপাশে তল্লাশির আধা ঘণ্টা পর কাপ্তাই হ্রদ থেকে ওই শিক্ষার্থী উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হবে।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে পংকজ শীল (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন তিলক চক্রবর্তী (৩০)। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পংকজ শীল কচুয়াই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মিলন শীলের ছেলে। আহত তিলক চক্রবর্তী মৃত দূর্গাপদ চক্রবর্তীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ৮ থেকে ৯ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল চক্রশালা এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় পংকজ শীল ও তিলক চক্রবর্তী ডাকাত দলের সামনে পড়ে যান। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যে পংকজ শীল মারা যান। আহত তিলক চক্রবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পাভেল বিশ্বাস জানান, রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল এলাকায় প্রবেশ করলে গ্রামের দুই ব্যক্তি তাদের সামনে পড়ে যান। এ সময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে থাই গ্লাসের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিজয় চন্দ্র দে নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুকুরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বিজয় চন্দ্র দে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুবল চন্দ্র দে’র ছেলে।
ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন জানান, স্থানীয় ঠিকাদার মোর্শেদের অধীনে প্রবাসী শাহ আলমের নির্মাণাধীন ভবনে থাই গ্লাসের কাজ করছিলেন বিজয়। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত নাজিরহাট মেডিক্যালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে রেললাইনে হাঁটার সময় কক্সবাজারগামী ট্রেনের ধাক্কায় মোহাম্মদ টিপু (২৫) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত টিপু হারবাং এলাকার শাহজাহানের ছেলে। তিনি কয়েকদিনের জন্য বারদোনা এলাকায় তার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিপু কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শারফু সিকদার জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত টিপুকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সাইমুন সিরাজ বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলেও পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে লোহাগাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার দিদার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় বাইরের কোনো বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা স্বজনদের নিজস্ব গাড়ি প্রবেশে বাধা না দেওয়াসহ ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সিএমএম)। পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার এ নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগর পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত শেষে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সিএমএমের আদেশে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের বাইরে থেকে আসা বৈধ অ্যাম্বুলেন্স কিংবা স্বজনদের নিজস্ব গাড়ি দিয়ে রোগী বা লাশ পরিবহনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে জড়িত ব্যক্তিরা গাড়িচালকদের হুমকি, মারধর ও হেনস্তাও করছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধারায় এবং সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মামলা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পাশাপাশি চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা নিজেদের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান বা অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার করে পরিবহনসেবা নিতে পারেন। কোনো বৈধ গাড়ির প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।