চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা ও মরদেহ ছয় টুকরো করার দায়ে আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করলেও উচ্চ আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে যেন সাজা বিলম্বিত না হয়, সেজন্য এক মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আয়াতের বাবা-মা।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর আদালতের বাইরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আয়াতের বাবা ও মামলার বাদী সোহেল রানা বলেন, রায়ের আদেশে আমি খুশি। তবে আমার দাবি, এই ফাঁসির আদেশ যেন এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা হয়। সাজা কার্যকর করতে দেরি হলে অপরাধীরা এ ধরনের নিষ্ঠুর কাজ করতে আরও উৎসাহিত হবে।
তিনি মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইকে ধন্যবাদ জানান এবং সাজা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়াতের মা। তিনি বলেন, সন্তানে হারানোর শোক ভুলে থাকা সম্ভব নয়, তবে আসামির ফাঁসি দ্রুত কার্যকর দেখলে আত্মা কিছুটা শান্তি পাব।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস ও নির্মম হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আয়াত। পিবিআইর তদন্তে জানা যায়, প্রতিবেশী আবীর আলী মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করেন। কিন্তু শিশুটিকে কোথাও লুকিয়ে রাখতে না পেরে তিনি তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে আবীর শিশুটির মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন। ঘটনার ১৫ দিন পর আউটার রিং রোড সংলগ্ন স্লুইস গেট এলাকা থেকে আয়াতের খণ্ডিত মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আবীরের ঘর থেকে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএ-র মিল পাওয়া যায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটিও উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আবীরকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল পিবিআই।