অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে মালয়েশিয়া। দেশটির দুইটি রাজ্যে একযোগে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪০২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জোহর রাজ্যের জোহর বাহরুর তেব্রাউ শিল্পাঞ্চলের একটি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ প্রস্ততকারক কারখানায় বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কারখানাটি থেকে ৩৫৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। পূর্বে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস)-এর সহায়তায় জোহর ইমিগ্রেশনের এনফোর্সমেন্ট শাখা এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, কারখানাটিতে কর্মরত বহু বিদেশি শ্রমিকের বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি ছিল না।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করলে দ্রুত সব বহির্গমন পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের দুইজন স্থানীয় পুরুষ কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- ২৯৯ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ৭২ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন ইন্দোনেশীয়, দুইজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের নাগরিক। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।
দাতুক মোহদ রুসদি বলেন, কারখানাটিতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের একটি সুসংগঠিত চক্রের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেখানে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগসংক্রান্ত একাধিক বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে। আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্তের জন্য সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে যারা মুনাফা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জোহরজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি ইস্পাত কারখানায় পৃথক অভিযানে আরও ৪৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযানে আটক হওয়া সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।