,

 

গ্যাস সংকটে স্টেশন থেকে স্টেশনে ছুটছেন সিএনজি চালকরা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 11 August 2026, 04:11

চট্টগ্রামে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন কিছুটা স্বাভাবিক থাকার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের জন্য এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ছুটছেন সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা। কোথাও দীর্ঘ সারি, কোথাও আবার গ্যাস বিক্রিই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, নগরীর কদমতলী, বহদ্দারহাট, একে খান, আকবর শাহ, সিটি গেট, ওয়াসা মোড় ও ষোলশহর এলাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না অনেক চালক। আবার কোনো কোনো স্টেশনে গ্যাস থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় কম্প্রেসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ—দুই সংকট মিলিয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে গত ৫ আগস্ট মহেশখালী টার্মিনালের একটি বয়লার মেরামতের পর চট্টগ্রামে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে আজ সকাল থেকে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হয়েছে।

কদমতলীর ফোর স্টার সিন্ডিকেট সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিলেন চালক মোহাম্মদ কামাল। তিনি বলেন, গ্যাসের জন্য এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরছি। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ। এখানে খোলা আছে জেনে এসেছি। কিন্তু এখানেও অনেক বড় লাইন।

আরেক সিএনজি চালক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় যাচ্ছে গ্যাস সংগ্রহের পেছনে। এরকম হলে আমরা গাড়ি চালাবো কখন আর আয় করবো কখন? তিনি গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে কিছু স্টেশনে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার কোথাও সামান্য চাপ পাওয়া গেলেও বিদ্যুৎ না থাকায় গ্যাসের কম্প্রেসার চালানো যাচ্ছে না। এতে স্টেশনে গ্যাস থাকলেও তা যানবাহনে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ফিলিং স্টেশনের গ্যাস কম্প্রেসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরবরাহ লাইনে নামমাত্র গ্যাস থাকলেও স্টেশন থেকে যানবাহনে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। এতে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

এসব সংকটের কারণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সময় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আরপিজিসিএল, জিটিসিএল ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গণমাধ্যমকে জানান, এলএনজির কার্গো (জাহাজ) পাশেই আছে। বৈরী আবহাওয়ার জন্য টার্মিনালে নেওয়া যায়নি। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।

ভিডিও