আগামী রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
একদিকে কওমি ধারার দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতের উদ্যোগে গত ১৬ জুলাইয়ের বৈঠক। বৈঠক পরবর্তী বিএনপি বা জামায়াত জোটে থাকা কওমিদের কারো দূরে দূরে থাকা, কারো বা জোট ভাঙ্গার ঘোষণা- নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে হেফাজত আমিরের সাক্ষাৎ জল্পনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক প্লে কার্ডে হেফাজতভুক্ত কওমি ধারা তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
দলীয় নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে , গত ১৬ জুলাই কওমি ধারার সাতটি দলকে নিয়ে একান্ত বৈঠক করেছেন হেফাজতের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। ওই বৈঠকে এক টেবিলে বসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা কওমি দলগুলো। বিএনপি ও জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ আগস্টের মধ্যে দলগুলোকে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছিল । আজ শুক্রবার ৭ আগস্ট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই দলগুলোর সিদ্ধান্ত হেফাজত আমিরের হাতে চলে এসেছে। মূলত জামায়াতের সঙ্গে আকিদাগত মতবিরোধের কারণে, তাদের কাছ থেকে দেওবন্দি ধারার দলগুলোকে আলাদা দেখতে চান হেফাজত আমির। প্রধানমন্ত্রীর সাথে হেফাজত আমিরের সাক্ষাতে কওমিদের নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
কওমি দলগুলো বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোটে, ভোটে থাকলেও বর্তমানে মাঠে নেই। হেফাজত আমিরের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপির সঙ্গে থাকা জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নেয়নি দলটি।
অপরদিকে জামায়াত জোটে থাকলেও কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না আবদুল বাছিত আজাদ ও আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস। গত ২৫ জুলাই জামায়াত জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে খেলাফত মজলিস। তবে জামায়াত জোটভুক্ত অন্য হেফাজত নেতাদের ব্যাপারে এখনো কোনো কথা শোনা যায়নি।
বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি দলগুলোকে এক ধারায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ১৬ জুলাই কওমি ধারার সাতটি দলকে নিয়ে বৈঠক করেন হেফাজতের আমির। ওই বৈঠকে বিএনপি জোটে থাকা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জামায়াত জোটে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস,খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোট যোগ দেয়। এমনকি অতীতে হেফাজতভুক্ত কওমি ধারার সংগঠনের সাথে না থাকলেও বৈঠকে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও যোগ দিয়েছেন। প্রতিটি দল থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা।
বিষয়টি নিয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতে ইসলামের আমির নির্বাচনের আগেই কওমি ধারার দলগুলোকে এক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে একেক দল একেক দিকে গেছে। এখন দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। আগামীতে আরও বৈঠক হবে। আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলছেন, কওমি ধারার দলগুলোর এক ধারায় আসার উদ্যোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বা জোটের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জোটের ভেতরে কোনো সমস্যা বা দূরত্ব হলে সেটি আমরা আলোচনা করেই নিরসন করবো।
পূর্বতারা/ইউডি