মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি সারানোর কাজ চলমান। এমন অবস্থায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা মোতাবেক গ্যাস না পেলেও চট্টগ্রামে তেমন চাপ পড়েনি। সরবরাহ ব্যবস্থায় রেশনিং চালু থাকার কারণেই চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক ভালো। তাই গ্রাহকদেরকে ভোগান্তি ও দুর্ভোগ তেমনটা পোহাতে হচ্ছে না।
কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটে’র (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ কম। এর ফলে কেজিডিসিএল বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে । এখানে গ্রাহকদের মাঝে রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। আর রেশনিংয়ের ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহকৃত গ্যাসের চাপ কম থাকলেও চট্টগ্রামে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেজিডিসিএল’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে সরবরাহ কম দেয়া হচ্ছে। শিল্প কারখানায় সরবরাহে গ্যাসের চাপ কমানো হয়েছে। তবে রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউট করার কারণে শিল্প বা আবাসিক সেক্টরে গ্রাহকরা স্বাভাবিক চাপে গ্যাস পাচ্ছে।
বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে দিনে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। অথচ একই সময়ে চাহিদা ছিল প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। তবে গ্যাসনির্ভর দুটি সার কারখানা ও কয়েকটি ক্যাপটিভ পাওয়ার বন্ধ থাকা এবং অবশিষ্ট সেক্টরে রেশনিং ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ চালু থাকায় চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের প্রভাব তুলনামূলক কম।
এ ব্যাপারে কেজিডিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী মো. নাহিদ আলম বলেন, মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমেছে। তবে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা রয়েছে। অন্যান্য এলাকার তুলনায় চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক বেশি রয়েছে। কেননা চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে গ্যাস যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। তাছাড়া রেশনিং করার কারণেই বাসাবাড়ি বা সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক ভাল।
কেজিডিসিএলের হিসাবে, চট্টগ্রামে মোট গ্রাহক ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৪ জন। এর মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ারের গ্রাহক ২০৪ এবং শিল্পগ্রাহক ৯৬২। বাকি গ্রাহক বিদ্যুৎ, সার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতে।
চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা গুলচেমন আরা বলেন, গ্যাসের সমস্যার কথা শুনেছি। তবে আমাদের এখানে তেমনটা দেখছি না। আমাদের রান্নাবান্না সাংসারিক কাজকর্ম চলছে আগের মত। আগামীতে কি হয় জানি না।
কোতোয়ালি মোড় এলাকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের নিতে আসা সিএনজি অটোরিকশার চালক মো. শামসুল আলম বলেন, এখানে প্রেসার ভাল । স্টেশনে মোটামুটি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে । পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো আছে। সামনের পরিস্থিতি বলা যাচ্ছে না।
গত মঙ্গলবার মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মার্কিন পরিচালনাধীন এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটিতে আগুন লাগে। এরপর ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুটির মধ্যে সামিট টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ চালু রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যার প্রভাবে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের গ্যাস সরবরাহ সিস্টেমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়।
পূর্বতারা/ইউডি