,

 

বন্ধ হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ : 23 July 2026, 11:32

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চার দিন ১১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে পানি নিষ্কাশনের পর অবশেষে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টায় জলকপাটগুলো বন্ধ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

এর আগে গত শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল। এতে উজান ও ভাটি অঞ্চলের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় হ্রদের পানির উচ্চতা আবার নিরাপদ সীমায় নেমে এসেছে। ফলে পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ের সব জলকপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৩ দশমিক ৩১ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। কাপ্তাই বাঁধের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল এবং বিপদসীমা ধরা হয় ১০৮ দশমিক ৫০ ফুট এমএসএল।

বর্তমানে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি ব্যবহার করে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভারী বৃষ্টিপাতে পানির স্তর আবার বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৬২ সালে তা সম্পন্ন হয়। বাঁধটির পাশে ১৬টি জলকপাট সংবলিত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ স্পিলওয়ে রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

ভিডিও