,

 

কক্সবাজারে সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকটে দুর্ভোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : 13 July 2026, 05:36

টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত কক্সবাজারে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও স্বস্তি ফেরেনি দুর্গত মানুষের জীবনে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকট ও খাদ্যাভাবের কারণে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী রয়েছেন।

রোববার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, রামু, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে। অনেক প্রধান সড়ক পানিমুক্ত হলেও অধিকাংশ বসতবাড়ি, উঠান ও গ্রামীণ সড়কে এখনো পানি জমে রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে নতুন করে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বে জারি করা সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করেছে। সমুদ্র ও নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার নৌযান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে।

তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও ফসলি জমি। অনেক পরিবার এখনো কাদামাটি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকার মানুষ। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানির অভাবে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকটও দেখা দিয়েছে।

পেকুয়ার বাসিন্দা সাকিব হাসান বলেন, পানি নেমে যাচ্ছে, কিন্তু বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। খাবার পানির জন্য অনেক দূরে যেতে হচ্ছে। চকরিয়ার কাকারা এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন রনি বলেন, তিন দিন পানিবন্দি ছিলাম। এখন পানি কমলেও এলাকায় সুপেয় পানি ও খাবারের সংকট রয়েছে। হতদরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে জোয়ারের সময় পানি নিষ্কাশনের গতি কিছুটা কম থাকায় লোকালয়ের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বাদ পড়বেন না। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ না কমা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্গঠনের জন্যও সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের জন্য ত্রাণ, উদ্ধার এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটাতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিডিও