চট্টগ্রামে চার দশকের রেকর্ড বৃষ্টিপাত, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও এর যোগাযোগব্যবস্থা। এ দুর্যোগে ব্যাহত হওয়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি বিশেষ নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ চেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে যৌথ চিঠি দিয়েছে দেশের চার শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন।
রবিবার (১২ জুলাই) পাঠানো এই চিঠিতে যৌথভাবে সই করেছেন—বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের ব্যবসা-বান্ধব নীতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা সচল রয়েছে। তবে গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নজিরবিহীন অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সাথে সংযুক্ত সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থায় মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, যা দ্রুত নিরসন করা জরুরি। জলাবদ্ধতার কারণে বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকৃত তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক ও খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। একই সাথে রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের শিপমেন্ট বিলম্বিত হওয়ায় অর্ডার বাতিল, বড় অঙ্কের মূল্যছাড় ও ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্টের মতো চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন দেশের উদ্যোক্তারা।
বিদ্যমান মহাসংকট থেকে শিল্প খাতকে রক্ষা করতে চিঠিতে মন্ত্রীর কাছে যৌথভাবে বেশ কয়েকটি জরুরি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা চিঠির শেষাংশে বলেন, দেশের উৎপাদন খাত, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণপূর্বক দ্রুত একটি সমন্বিত রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। তাঁরা এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর দ্রুত ও কার্যকর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পূর্বতারা/ইউডি