,

 

২১টি স্লুইসগেট চসিককে হস্তান্তর করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 13 July 2026, 05:49

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন ২১টি স্লুইস গেট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে চসিক সম্মেলন কক্ষে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রগতি এবং স্লুইসগেট নির্মাণ প্রকল্পটি চসিকের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হবে। প্রকল্পটি যাতে চসিক ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে সেজন্য চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে এইখানে স্লুইস গেট নির্মাণের প্রজেক্ট যেন কোন কারণে ব্যাহত না হয়, চট্টগ্রামের মানুষ কোনভাবেই যেন ভবিষ্যতে জলবদ্ধতার সম্মুখীন না হয়। সেই বিষয়টা মাথায় রেখেই উনি এই প্রজেক্টটা আমাদের সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হিজড়া খাল ও বামনশাহী খালের বিভিন্ন অংশের কাজ চলমান। এসব কাজ শেষ হলে নগরবাসী প্রকল্পের পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও টেকসই করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ‘ওয়াটার লগিং ডিপার্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিভাগ রেগুলেটর, পাম্প, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও খালসমূহের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করবে।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্লুইস গেটগুলোর মাপ পানি অপসারণের উপযোগী কী না তা যাচাই করতে হবে। স্লুইস গেটের পরিকল্পনাটি পূর্ববর্তী সরকারের। স্লুইসগেটগুলোর ডিজাইন ত্রুটিপূর্ণ কীনা তা যাচাই করা যেতে পারে।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, বারুনিঘাট এবং ২৬ নম্বরে দুটো খাল আমি দেখেছি। এর পেছনে ১৬ নম্বর যে স্লুইস গেট। সেটি বন্ধ। আবার বড় স্লুইসগেটটিও বন্ধ। আমি ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে বিষয়টা জানিয়েছি।

সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বক্তব্য রাখেন।

সভায় চসিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের খাল ও জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও