চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম।
সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান কমিটির নেতারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এ ধরণের ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ উদ্বেগজনক। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংসদে আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা উচিত।
নেতারা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চাইলেও দেশব্যাপী গণপ্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনমতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে শুধু এনসিটি নয়, সিসিটিও ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতদিন আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। তবে এখন এনসিটির পাশাপাশি সিসিটিও ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের খবর জনমনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি নবনির্বাচিত সরকারের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক কাজ থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত অবকাঠামো। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল কয়েকজন মন্ত্রী বা আমলার অনুমোদনের বিষয় হতে পারে না।
নেতারা অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, কমরেড মো. শাহ আলম, বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু, অ্যাডভোকেট মনিরুল আলম, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, শ্রমিকনেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ অন্যান্য নেতারা।
পূর্বতারা/ইউডি