টানা বৃষ্টাপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। বন্যার পানির কারণে মানুষের ঘরবাড়ি রান্নাঘর ও বসতভিটায় বেড়েছে সাপের চলাচল। বিগত কয়েকদিনে চট্টগ্রামে অন্তত ৮৬ জন সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোন মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও দুর্যোগে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১০২ জন। এর মধ্যে পাহাড়ধসে আহত হয়েছেন দুজন, দেয়ালধসে দুজন, সাপে কাটা ৮৬ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১ জন।
সাপে কাটা ৮৬ জনের মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ২০ জন, পটিয়ায় ১৮ জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, রাউজানে ৯ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, সাতকানিয়ায় ৬ জন, আনোয়ারায় ৫ জন, চন্দনাইশে ৩ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন এবং লোহাগাড়ায় ২ জন রয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিম পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওআরএস, প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিয়ে কাজ করছে।
সিভিল সার্জন বলেন, বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলার ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বাঁশখালীর ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি উঠলেও বর্তমানে তা নেমে গেছে।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। এসব টিম এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছে। পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ শিশুদের দ্রুত নৌকাযোগে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।