কক্সবাজারের পেকুয়ায় ১৯ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিমকে ঘরে রেখে মা বাইরে কাজ করছিলেন। খেলার ছলে শিশুটি কখন যে ঘর থেকে উঠোনের কোমরপানিতে পড়ে যায় তা টের পাননি কেউ। পরে অনেক খোঁজাখুজি করে রাত সাড়ে নয়টায় শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার পেকুয়ার বলিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বানের পানিতে কক্সবাজারে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই দুই শিশু হলো পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকার মুশফিকুর রহিম এবং চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জলদাসপাড়ার সুজিত দাস (১২)।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম মুশফিকুর রহিমের মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
পেকুয়ার বলিরপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, ছেলেকে বসতঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন মা। তাঁদের বসতঘরে হাঁটুসমান ও উঠানে কোমরপানি। লোকালয় থেকে নেমে যাওয়া পানির স্রোতে শিশুটি কখন পড়ে যায়, তার মা টের পাননি। দোকান থেকে ফেরার পথে শিশুটির চাচা লেদু মিয়া ভাতিজার মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, শনিবার চকরিয়ার জলদাসপাড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া সড়ক পার হতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে সুজিত দাস নামে অপর এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, জলদাস পাড়ার গ্রামীণ সড়ক দিয়ে সুুজিতসহ তিনজন বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ স্রোতের তোড়ে সে সড়কের পাশের মাছের ঘেরে ভেসে যায়। সড়কটির এক পাশে মাছের ঘের, আরেক পাশে লোকালয়। লোকালয় থেকে বন্যার পানি সড়কের ওপর দিয়ে মাছের ঘের হয়ে মাতামুহুরী নদীতে পড়ছে। এর পর থেকে সে নিখোঁজ।
সুজিত চকরিয়ার জলদাসপাড়ার তুফান দাসের ছেলে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তবে স্রোত বেশি থাকায় এবং ডুবুরি দলের কেউ না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রামের ডুবুরি দলকে খবর দেয়া হয়েছে।
এ নিয়ে বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬-এ।