,

 

চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমলেও উন্নতি হয়নি বন্যা পরিস্থিতির

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 11 July 2026, 06:13

টানা এক সপ্তাহের অতি ভারী বর্ষণের পর চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। এতে করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি কমে আসলেও উপজেলাগুলোতে এখনও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পাহাড়ি ঢলের পানি ও জমে থাকা পানির প্রবাহে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।​

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর আগে গত ৪ জুলাই থেকে টানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সাত দিনে মোট ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সে তুলনায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টি অনেক কম।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দৈনিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, গত দুই দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসায় নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদসহ নিচু এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। অধিকাংশ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নগরজীবনে। তবে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় গ্রামীণ এলাকার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।​

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এবং উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও লোকালয় এখন পানির নিচে। গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে অনেক ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় হাজার হাজার পরিবার গবাদিপশু ও জরুরি আসবাবপত্র নিয়ে সাইক্লোন শেল্টার ও উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।​

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে থাকা সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। একই সাথে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসি মানুষের মাঝে চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গ্রামীণ এলাকার বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা আরও বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী সহায়তা করছে। যার যার অবস্থান থেকে বানবাসীদের সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি।

শনিবার চট্টগ্রাম সফরে এসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন,দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। বর্তমানে জেলার ৬৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

ভিডিও