মুষলধারে টানা বৃষ্টি চট্টগ্রামের জনজীবনে নানামুখী দুর্ভোগ-ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। তিন দিন ধরে চলমান এই বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কে গণপরিবহন চলাচল অনেকটাই সীমিত। এতে করে চরমে দুর্ভোগে পড়েছেন জীবিকার খোঁজে ছুটে চলা কর্মব্যস্ত মানুষেরা। বৃষ্টি বিড়ম্বনার সুযোগে গণপরিবহনগুলো যাত্রীদের পকেট কাটতে শুরু করেছে। গণপরিবহনগুলো তাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রাম আদালতে আসেন আইন পেশাজীবী মো. সাইফুল আলম। আদালত প্রাঙ্গনে চায়ের স্টলে তার সাথে দেখা হয় এই প্র্রতিবেদকের। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আলাপচারিতায় তিনি জানান, ১৫ টাকা ভাড়ার রাস্তা আজ তাকে আসতে হয়েছে ৫০ টাকা খরচ করে। গাড়ি পাল্টাতে হয়েছে দুইটা।
তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে গাড়িওয়ালাদের পোয়াবারো অবস্থা। কোনো কারণ ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে দেয় তারা। আমি কাপ্তাই রাস্তার থেকে ১৫ টাকা দিয়ে বহদ্দারহাট এসেছি। তারপর সেখান থেকে সিএনজি টেম্পোতে করে ৩০ টাকা ভাড়ায় শাহ আমানত মার্কেট আসি। সেখান থেকে জহুর মার্কেট দিয়ে হেঁটে কোর্ট বিল্ডিংয়ে আসি।
শুধু কালুরঘাট-নিউমার্কেট রুট নয়, বৃষ্টির সুযোগে নগরীর অধিকাংশ রুটের গণপরিবহনগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।
নগরীর বারিক বিল্ডিং থেকে চকবাজার রুটে যাতায়াত করেন মো. হারুণ। তিনি বলেন, আগ্রাবাদে একটি সিএন্ডএফ হাউজে চাকরি করি আমি। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেই সকালে বের হয়েছি অফিসের উদ্দেশ্যে। তবে বৃষ্টির কারণে তাকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে চকবাজার গুলজার মোড়ে। প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষার পর একটি সিএনজি টেম্পোতে করে তাকে কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার একটি বিয়ে বাড়ি থেকে বাসায় ফিরছিলেন শ্রাবণী ঘোষ। বর-কনে বিদায়ের পর পরিবারের চার সদস্য মিলে তারা বের হন চান্দগাঁওয়ের বাসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বিধিবাম। সাত সকালে বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় কোনো সিএনজি অটোরিকশার দেখা নেই। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ২০০ টাকা ভাড়ায় তাদেরকে বাসায় ফিরতে হয়েছে। তিনি জানান, গতকাল রাতে চান্দগাঁও থেকে আতুরার ডিপো এলাকার ওই বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম ১৫০ টাকা দিয়ে। আর আজ সকালে আসতে হয়েছে ২০০ টাকা দিয়ে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্টে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
পূর্বতারা/ইউডি