রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৪:১০

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে ব্যবসায়ী আবু নাছের হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মো. ইসমাইল হোসেন সুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। মামলায় ইসমাইল হোসেন সুজন একমাত্র আসামি।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল হোসেন সুজন (৪৫) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের নাছের আহম্মদের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার শপিং কমপ্লেক্সে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আবু নাছের (২০) সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ ছলিমপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে এবং মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় মমতাজ টেলিকম নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।

একই তলায় ফেরদৌস ওয়াহিদ এস এম টেলিকম নামে আরেকটি দোকান পরিচালনা করতেন। ওই দোকানের একটি অংশ ভাড়া নিয়ে মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন ইসমাইল হোসেন সুজন। পরে দোকান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বকেয়া ভাড়া নিয়ে সুজনের সঙ্গে ফেরদৌস ওয়াহিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন রাতে বকেয়া ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন আবু নাছের। এ সময় সুজন কাঁচি দিয়ে তার বুক ও তলপেটে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন নিহতের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও