আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ কর্মসূচি পালন করেছেন পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা। বুধবার(১৭ জুন) দুপুরে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যানারে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে আমরা নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে পারছি না। সন্তানের লেখাপড়া, অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে গিয়ে অনেক পরিবার চরম সংকটে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১০ এপ্রিল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি হলেও সেখানে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, আমরা আমাদের নিজের টাকা ফেরত চাই, বলেন তিনি।
এ সময় আমানতকারীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হেয়ার কাট নীতি (মুনাফা কর্তন) বাতিল করে আমানতের পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া; সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক করা; এফডিআর, ডিপিএস ও অন্যান্য আমানতের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং পূর্বঘোষিত মুনাফার হার বহাল রাখা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, চাকরিজীবী, প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রেখেছিলেন নিরাপত্তার আশায়। কিন্তু এখন সেই অর্থ ফেরত না পেয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা সাধারণ আমানতকারী। আমাদের কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত এই সংকটের সমাধান করা হোক।
প্রসঙ্গত, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকে হেয়ার কাট বাতিল এবং লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন আমানতকারীরা। ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।