বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ফটিকছড়ি-সীতাকুণ্ডে ‘এমপি কোটা’ বন্ধ, বিকল্প বরাদ্দ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৪

চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে চলমান আইনি জটিলতার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই দুটি আসনে নির্বাচিত দুইজন জনপ্রতিনিধি আছেন, জনগণ আছেন, সরকারও আছে। শুধু থমকে আছে উন্নয়ন। রাজনৈতিক বিরোধ, মামলা ও পাল্টা মামলার কারণে এখনো আসন দুটির গেজেট প্রকাশ হয়নি। এতে করে আটকে গেছে সংসদ সদস্যদের অনুকূলে বরাদ্দ হওয়া বিশেষ উন্নয়ন তহবিল।

তবে স্থানীয় সরকার ও জননীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো আসনে সংসদ সদস্য না থাকলেও সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। সরকার চাইলে বিকল্প বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা যাবে।

সাবেক স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. তোফায়েল আহমেদের অভিমত, “কোনো নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্য না থাকলেও সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো নিজস্ব প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে এমপিদের সুপারিশভিত্তিক বিশেষ বরাদ্দ বা এলাকাভিত্তিক কিছু তহবিলের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।”

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের জন্য টিআর কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত এক কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। একইভাবে কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় আরও এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বরাদ্দ থেকেও বঞ্চিত হয়েছে এলাকাবাসী। এছাড়া ১১২ মেট্রিক টন চাল ও ১১২ মেট্রিক টন গমের বরাদ্দও আটকে রয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানান, নিয়মিত সরকারি কার্যক্রম চললেও এমপিদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনে অবগত করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামেরও একই কথা। তিনি বলেন, সর্বশেষ টিআর, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির কোনো বরাদ্দ তাদের উপজেলায় আসেনি। এসব বরাদ্দের মাধ্যমে সাধারণত অনেক ছোট উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এবার সেসব প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

সীতাকুণ্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মো. একরাম বলেন, নেতা নেতার বিরোধ বা আইনি লড়াই যা-ই হোক, তার প্রভাব কেন আমাদের উপর পড়বে ? আমরা কেন কষ্টে থাকব। সারা দেশে সরকারি বরাদ্দ যাচ্ছে। রাস্তাঘাট , খাল-নালা সংস্কার হচ্ছে। উন্নয়ন শুরু হয়েছে দেশব্যাপী। অথচ আমাদের এলাকায় কোনো কিছু আসছে না সরকারের পক্ষ থেকে। আমরা উন্নয়ন চাই।

এদিকে, আসন দুটির প্রার্থীদের মধ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ের সমাপ্তি কখন ঘটবে ? কখন দুই নির্বাচিত প্রার্থী সংসদে শপথ নিয়ে সেবায় নামতে পারবেন ? আসনগুলো নিয়ে কখনই বা প্রকাশ হবে গেজেট – এসব প্রশ্নের উত্তরও আটকে রয়েছে আদালতের নির্দেশের ওপর।

সীতাকুণ্ড আসনে নির্বাচিত আসলাম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গত ১৫ জুন আপিল বিভাগে শুনানি হয়েছে। আসলাম সাহেবের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর রায়ের জন্য ৩০ জুন তারিখ ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। স্থগিত থাকা ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে কি না, সে বিষয়েও আদালতের নির্দেশ আসতে পারে।

ফটিকছড়ি আ্সনে নির্বাচিত সারোয়ার আলমগীরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, আপিল বিভাগ উনার প্রার্থীতার বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ ও শপথ আপাতত স্থগিত থাকছে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও